পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। ভারত প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৬০ শতাংশ এলপিজি এবং ৫০ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ভারত হঠাৎ সরবরাহ শৃঙ্খলে আঘাতের ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে এতে ঘুম উবে যাওয়ার অবস্থা হয়নি ভারতের। কেননা, ভারত অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ভারত ভূগর্ভস্থ গুহাগুলোর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এবং তার তেলের ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করে নীরবে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
তাই বলে এমন নয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ভারতে পড়েনি। রান্নার জ্বালানি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত এলপিজির দাম ববৃদ্ধি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত যোগানের ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে মূলত রেস্তোরাঁ এবং ভারতে হোটেলগুলোতে। দামের অস্থিরতা অনিবার্য হলেও, জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মতে, ভারতে ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে। কৌশলগত তেলের মজুদ ছাড়াও পেট্রোল এবং ডিজেলের মজুদ আরও ২৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। রান্নার গ্যাস বা এলপিজি প্রায় ২৫-৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে শিল্পে ব্যবহৃত এলএনজি প্রায় ১০ দিন চলার মতো অবস্থায় রয়েছে। ভারত জ্বালানি নিশ্চয়তার মূল চাবিকাঠি হলো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত গোপন ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের গুহা । বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্র প্রদেশ), ম্যাঙ্গালুরু (কর্ণাটক) এবং পাদুরে (তামিলনাড়ু) রয়েছে এই গুহাগুলো।
ভাইজাগে অবস্থিত অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের ভূগর্ভস্থ গুহাটিপ্রায় ১০ বছর আগে ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ লিমিটেড তৈরি করেছিল। এই গুহাগুলোতে একসাথে ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (৪০ মিলিয়ন ব্যারেল) মজুদ করতে পারে, যা জাতীয় চাহিদার প্রায় ১০ দিনের জন্য যথেষ্ট।
এই ধরনের ভূগর্ভস্থ গুহাগুলোর সুবিধা অনেক। এগুলো বাইরের আক্রমণ বা ড্রোন হামলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাছাড়া, এগুলোর পরিচালনা খরচ কম এবং গভীর ভূগর্ভস্থ হওয়ায় গুহাগুলোতে আগুন বা তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।
সরকার এখনও এই মজুদগুলো কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। আসলে এই কৌশলগত বাফার স্টক সরকারকে বিকল্প আমদানির ব্যবস্থা করার জন্য সময় দেয়।
ভারতের অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত সঞ্চয় রয়েছে ভূগর্ভস্থ গুহায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
২ মাস আগে
১৩ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬, ১০ঃ২৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
