বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র

সহযোগীদের খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশভেদে ভিন্ন হারে উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ সর্বোচ্চ আদালতে বাতিল হওয়ায় অন্য কোনো পন্থা খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশসহ ১৫ দেশ এবং

ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিনা-তা নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর। গত বুধবার ইউএসটিআর এ ঘোষণা দেয়। এসব দেশের আইন, নীতি এবং চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক বা প্রতিবন্ধকতামূলক কিনা- তা বের করা তদন্তের উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইউএসটিআর। বাংলাদেশ ছাড়া এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান এবং ভারত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও এর আওতায় থাকবে। 'রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ' বা পাল্টা পারস্পরিক শুল্ক আরোপের পর সমঝোতার মাধ্যমে তা কমাতে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর বা চূড়ান্ত করেছিল।

বাংলাদেশ গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে। চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। চুক্তিতে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বাড়তি ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ঘোষিত পাল্টা শুল্কহার ছিল ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সে দেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর নানা পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প প্রশাসন তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছিল। তবে অর্থনীতিবিদরা বাণিজ্য চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে মত দিচ্ছেন। তারা বলছেন, চুক্তির কিছু ধারা অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যকে সীমিত করে।

পাল্টা শুল্ক আরোপ-সংক্রান্ত আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ও বাতিল ঘোষণার পর কোনো দেশই এখন নিজে থেকে চুক্তি কার্যকর করার পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এমন তদন্তের পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

তদন্তের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন খতিয়ে দেখবে, এসব দেশ তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন কোনো সহায়তা দিচ্ছে কিনা, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষত কোনো দেশে যদি নিজ দেশের শিল্পের জন্য ভর্তুকি, কর সুবিধা বা নীতি সহায়তা দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন করার কারণে পণ্যের মূল্য যৌক্তিক মূল্যের থেকে কম থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মনে করবে এবং সে দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করবে।

বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এ ধরনের তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের নাম থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি ও নীতি সহায়তা দিতে পারে। তাছাড়া এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিনস গ্রিয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে যেসব দেশের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে অথবা যেখানে চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন আছে মর্মে প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেসব দেশই মূলত তদন্তের আওতায় এসেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগে শুরু হওয়া তদন্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই কিছু দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সম্ভাব্য শুল্কের মুখে পড়তে পারে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মেক্সিকো।

প্রথম আলো

‘সংসদ হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে জাতীয় সংসদ। সমস্যা সমাধানেরও কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ। এমন প্রত্যাশা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই অধিবেশনে

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত। জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা—সবার বক্তব্যেই এসেছে এ প্রত্যাশা ও প্রত্যয়ের কথা।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে প্রাণবন্ত পরিবেশে শুরু হয় ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন। তবে প্রথম দিনের বৈঠকের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তাপ ছড়ায় অধিবেশনে। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন নতুন সংসদ সদস্যরা। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হলো। উদ্বোধনী অধিবেশনের কার্যক্রম দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, তিন বাহিনীর প্রধানেরাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা।

ব্যতিক্রমী শুরু

সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল নতুন সংসদের অধিবেশনের শুরুটা ছিল ব্যতিক্রমী।

বেলা ১১টার পরপর সংসদকক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের জন্য আহ্বান জানান।

এরপর সংসদে সভাপতিত্ব করতে একজনের নাম প্রস্তাব করার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আহ্বান জানান সংসদ সচিব। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। তাঁরা জাতীয় সংসদকে সব যুক্তিতর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করার সময় সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের থাকার কথা ছিল। কিন্তু পতিত, পরাজিত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছিল, তাতে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা পলাতক।

বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা তারেক রহমান সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধান অনুযায়ী প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার জন্য জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নজির অতীতে আছে। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁর সভাপতিত্বে দেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল। সংসদ নেতা তারেক রহমান সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

পরে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এরপর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। তবে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি নিয়ে আগে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করলে ভালো হতো।

সরকারি দল ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদ নেতার প্রস্তাবটি সমর্থনের পর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতির আসনে বসেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

সভাপতির আসনে বসে খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর তিনি নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রমে অগ্রসর হন। স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র পেয়েছেন বলে তিনি জানান। স্পিকার পদে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (ভোলা-৩) মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন হুইপ রকিবুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

এরপর ডেপুটি স্পিকার পদেও একটিমাত্র মনোনয়নপত্র পাওয়ার কথা জানান অধিবেশনের সভাপতি। এই পদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। এটি সমর্থন করেন আরেক হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান। পরে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হলে কায়সার কামাল নতুন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর আধা ঘণ্টার জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির সময় জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তর প্রধান শিরোনাম ‘উত্তাপ সংযমে নবযাত্রা’। খবরে বলা হয়, সংসদীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে জাতীয় সংসদ। এটিই সংসদীয় গণতন্ত্রের শর্ত ও সৌন্দর্য। সাধারণ ভোটারসহ দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যাশা করে-জাতীয় সংসদ হবে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অধিকার বাস্তবায়নের প্রধান কেন্দ্র। সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রতিনিধি তথা সংসদ-সদস্যরা জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাসহ নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার জনগণের পক্ষে কথা বলবেন। যেখানে সরকারি দলের পাশে সক্রিয় থাকবে শক্তিশালী বিরোধী দলও। জনগণের স্বার্থে সব পক্ষই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দেশের কোটি কোটি মানুষ টিভি পর্দায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক তাদের স্বপ্নের সেই সংসদ প্রত্যক্ষ করল। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে প্রতিবাদ হয়েছে, একপর্যায়ে বেশ উত্তাপও ছড়ায়, প্রতিবাদে বিরোধী জোট ওয়াকআউটও করে। কিন্তু বিপরীতে সবাই ছিলেন সংযত। একে-অপরকে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন।

এদিকে এই সংসদ যে কোনো গতানুগতিক সংসদ নয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা নির্বাচিত হয়ে এখানে আসতে পেরেছেন, সেই কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল প্রত্যেক সংসদ-সদস্যের মুখে। এজন্য ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সবাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এসব বিবেচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এই দিনটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। এককথায় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদি মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে বলতে হবে-জনপ্রত্যাশার জাতীয় সংসদ বৃহস্পতিবার দিনভর ছিল বেশ জমজমাট। যেখানে উত্তাপের পাশাপাশি সবার মধ্যে সংযম ছিল, কথা বলার মধ্যে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরিমিতিবোধ। এমন একটি দিনের জন্য ১৭-১৮ বছর ধরে সবাই অপেক্ষা করছিল।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, এবারের অধিবেশন প্রথম দিনেই দেশবাসীকে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। অতীতে সরকার ও বিরোধী দল ছিল একাকার। কে সরকারি দল, আর কে বিরোধী দল, তা বোঝা যেত না। এবার কিন্তু সরকারি দলকে জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধী দলও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ফলে সত্যিকারার্থে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে রূপ নেবে জাতীয় সংসদ। প্রথম দিনেই এমন আভাস মিলেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। বিগত সংসদের স্পিকার লাপাত্তা থেকেই পদত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকার একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এখন কারাগারে। এরকম পরিস্থিতিতে সংসদ সচিব কানিজ মাওলার পরিচালনায় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত। এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রথম সংসদ-সদস্য হিসাবে প্রবেশ করেন।

বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও এবারই প্রথম সংসদে পা রেখেছেন। ১১টা ৫ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এরপর সূচনা বক্তব্য দেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগ করা সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সমবেদনা জানান আহতদের প্রতিও। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কখনো আপস করেননি। এ সময় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

কালের কণ্ঠ

‘নতুন উদ্যমে গণতন্ত্রের পথে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত দেড় বছরে বাংলাদেশে ঘটে গেছে অসংখ্য ঘটনা। টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী সরকারকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বহু কাঙ্ক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেটিও বিদায় নিয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ক্ষমতায় বিএনপি সরকার।

আর গতকাল বৃহস্পতিবার ওই সরকারেরই নেতৃত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসল। বিরোধী জোটের হট্টগোল, ওয়াক আউটসহ মিশ্র পরিস্থিতির মধ্যেই ইতিবাচক অনেক কিছুর বার্তা দিয়ে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো।

ঘটনাপরম্পরায় আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় ওই চেয়ার খালি রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাব মোতাবেক বিএনপির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশনে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে।

ওই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন আগামী রবিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। তারা প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল-স্লোগান ও হট্টগোলের মধ্যে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে। এর আগে সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই সদস্যরা অধিবেশনকক্ষে আসন গ্রহণ করেন।

সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর ১১টা ৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সংসদসচিব কানিজ মওলা সংসদ নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। স্বাগত বক্তব্য শেষে সংসদ নেতা তারেক রহমান অধিবেশনের প্রথম সেশনের সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাবে দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দলের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমর্থন জানান। তখন স্পিকারের আসনে যান সেশন সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শেষে ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘রাষ্ট্রপতিকে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে নানা স্লোগান ও হট্টগোল, ওয়াক আউট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকেই সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তার ভাষণের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতসহ বিরোধী দল।

নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ প্রদানের জন্য আহ্বান জানালে নানা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেন প্রধান বিরোধীদল জামায়াতের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’সহ বিরোধী দলের এমপিরা। তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে তার সামনেই তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এনিয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে চলে হট্টগোল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। হট্টগোল ও তীব্র হই-চইয়ের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সদস্যরা এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের জন্য সংসদে আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সব সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে শুধু জামায়াতের আমির তার আসনে বসে ছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে, তারা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন।

এভাবে বিরোধীদলের সদস্যরা সবাই একযোগে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান ধরেন। এই হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে আসেন। স্পিকার তাকে চেয়ারে বসার অনুরোধ জানান। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই দাঁড়িয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু, আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। তখন কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।

নয়া দিগন্ত

‘সূচনায় প্রাণবন্ত, উত্তাপে শেষ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলো নানা নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়ে। প্রথম দিনের অধিবেশন এক দিকে যেমন প্রাণবন্ত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, অন্য দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ, স্লোগান ও ওয়াকআউটের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ ক। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে দিনের শুরুতে সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত থাকলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘোষণার পরই হঠাৎ করে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত ভাষণ দেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

প্রথম দিনের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী গঠন, শোকপ্রস্তাব গ্রহণ, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে বিরোধী জোটের অভিনব প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট।

স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে ঐতিহাসিক মুহূর্ত: সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদকে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় একই সময়ে প্রবেশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়।

বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে কারাগারে রয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে স্পিকারের আসন খালি রেখেই গতকাল বেলা ১১টার পর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম সংসদে স্পিকার না থাকায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্য মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন।

এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। সংসদ সচিব কানিজ মওলা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অস্থায়ী স্পিকার হিসেবে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করেন। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে সমর্থন জানান। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও এতে সমর্থন ও ধন্যবাদ জানান।

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকারের চেয়ারে আসীন হন। তার সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। খুলনা থেকে নির্বাচিত এমপি হুইপ রকিবুল ইসলাম এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। একইভাবে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন আরেক হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি এবং এই প্রস্তাব সমর্থন করেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি। দু’টি পদে একটি করে মনোনয়ন জমা পড়ায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে তোলা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তবে, কণ্ঠভোটের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের নীরব থাকতে দেখা যায়। এরপর ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে অস্থায়ী স্পিকার তার আসন ছাড়েন। পরে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিরতির সময়ই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে নির্বাচিত আহমেদ আযম খানকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। শপথ শেষে স্পিকারের আসনে বসেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংসদ অধিবেশন শুরু: প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়াল। সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। অবশ্য সংসদের সব গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিরোধী দল।

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে ভোলা-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং নেত্রকোনা-১ আসনের একই দলের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলা কার্যক্রমের সূচনা করেন। স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা রেখে শুরু হয় সংসদের কার্যক্রম। স্পিকারের চেয়ারের পাশে রাখা হয় রাষ্ট্রপতির জন্য চেয়ার।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে অধিবেশন শুরুর জন্য একজন সদস্যকে নির্বাচনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।’

তারেক রহমান সভাপতি হিসেবে বিএনপি দলীয় জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। অন্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সম্মতি দিলে সরকারি দলের প্রথম সারি থেকে খন্দকার মোশাররফ উঠে যান। এরপর সার্জেন্ট অব আর্মস স্যালুট দিয়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে নিয়ে যান।

এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়। অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে একটি করে মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানান। পরে নিয়ম অনুযায়ী তিনি স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামালের নাম ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

হাফিজ উদ্দিন ভোলা-৩ আসনের সাতবারের নির্বাচিত এমপি। এবার নির্বাচিত হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হন। স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রথমবার এমপি হয়েছেন। তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনিও ডেপুটি স্পিকারের শপথ নেওয়ার আগে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

দেশ রূপান্তর

‘প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গতকাল প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই উত্তপ্ত ছিল জাতীয় সংসদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করে বিরোধী দল। প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল-স্লোগান ও হট্টগোলের মধ্যে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের সদস্যরা।

স্পিকারের আসন খালি রেখেই গতকাল বেলা ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এমপিরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে স্পিকারের আসন ছিল ফাঁকা। সংসদ সচিব কানিজ মওলার উপস্থাপনায় অধিবেশন শুরু হয়। পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাব অনুযায়ী বিএনপিদলীয় সিনিয়র এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। অধিবেশনে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ওই অধ্যাদেশগুলো যাচাইবাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন আগামী রবিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদের অধিবেশন কক্ষে আসন গ্রহণ করেন এমপিরা। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পর ১১টা ৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সংসদ সচিব কানিজ মওলা সংসদ নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। স্বাগত বক্তব্য শেষে সংসদ নেতা তারেক রহমান অধিবেশনের প্রথম সেশনের সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাব দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দলের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমর্থন জানান। তখন স্পিকারের আসনে যান সেশন সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শেষে ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বপালনকারী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদকে জানান, দুটি পদে একটি করে মনোনয়ন জমা পড়েছে। তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে স্পিকারের আসনে যান নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী (প্যানেল স্পিকার) মনোনীত করেন। তাঁরা হচ্ছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমদ (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-২), ড. আবদুল মঈন খান (নরসিংদী-১), মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) এবং এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)। পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তা নিয়ে আলোচনা হয়।

অধিবেশনকক্ষে স্লোগান, বিরোধী জোটের ওয়াকআউট : অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমণবার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এর মধ্যেই অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশনকক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকারদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা সম্মান না জানানোর উদ্দেশ্যে তাঁদের আসনে বসে পড়েন। প্রথমে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বসে থাকলেও জাতীয় সংগীতের মাঝ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরাও দাঁড়ান।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন