অত্যন্ত নিম্নমানের ভেজাল সেমাইয়ে ছেয়ে গেছে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের হাটবাজার। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি এসমস্ত সেমাই বিভিন্ন হাত গলিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে। মজুত করা হচ্ছে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীর গুদামে। নীলফামারী জেলার ব্যবসা প্রসিদ্ধ গিঞ্জি শহর সৈয়দপুরের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন শতাধিক সেমাই কারখানা। কারখানাগুলোর অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে মানহীন উপকরণ দিয়ে সেমাই তৈরির হিড়িক পড়েছে। সৈয়দপুর শহরের অলিগলি, পাড়া মহল্লার বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়কে তৈরি হচ্ছে ভেজাল লাচ্ছা ও সেমাই। স্থানীয় কতিপয় প্রেসে ছাপানো অবিকল নকল মোড়কে ভরে এসমস্ত সেমাই রাতের আঁধারে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে।
সূত্র জানায়, শুধু নীলফামারী জেলাতেই নয় পাশের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে এসমস্ত ভেজাল মানহীন সেমাই। আর অধিক মুনাফালাভের আশায় স্থানীয় খুচরা ব্যবসাযীরা মানহীন এসব সেমাই বিক্রির জন্য দোকানে মজুত করছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের তৈরি সেমাইয়ের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় মৌসুমি অসাধু ব্যবসায়ী ঈদ এলেই লাচ্ছা সেমাই তৈরিতে ঝুঁকে পড়েন।
সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, কয়ানিজপাড়া, গোলাহাট, নতুন হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন বেকারিতেও তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে মানহীন সেমাই। এমনকি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ও ঝুঁপড়ি ঘরেও তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার লাচ্ছা সেমাই, বিস্কুট, টোস্ট, পাউরুটি, বনরুটি। যার অধিকাংশই নিম্নমানের।
এদিকে স্থানীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ই মার্চ সৈয়দপুর শহরের নতুনহাট এলাকায় অবস্থিত জনতা ফুড প্রোডাক্টসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটের আদলে নিম্নমানের সেমাই প্যাকেটজাত করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অপরদিকে ডোমার উপজেলার ছোট রাউতা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সন্তোষী মুড়ি মিলস এ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ক্যামিকেল হাইড্রোজ ও শিল্প লবণ জব্দ করে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
