পাবনার চাটমোহরে গলায় গামছা প্যাঁচানো ইমরান হোসেন (১৭) নামের এক ভ্যানচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মণ্ডলপাড়া শ্মশান এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ভ্যানচালক কিশোর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের আপন চাচাতো ভাইসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে আটক তারা। আটকরা হলো- নিহতের আপন চাচাতো ভাই শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত হানিফ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২), একই এলাকার সুমন হোসেন (১৮) ও পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের এজাজুল (২০)। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে ইমরানের বাবা মারা যান।
এরপর থেকেই সংসারের দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। কখনো দিনমজুরি আবার কখনো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল সে। গত বুধবার বিকালে চাচাতো ভাই হেলাল ও অপর ৩ জন ইমরানের ভ্যান ভাড়া নিয়ে চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায়। আনুমানিক রাত ১০টার দিকে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভ্যান ও মোবাইল ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দেয় ইমরান। একপর্যায়ে ইমরানকে মারধর করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে হত্যাকারীরা ভাঙ্গুড়া উপজেলার মেন্দা এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এখানেই শেষ নয়, রাতেই ইমরানের ভ্যানটি বিক্রি করে দেয়া হয়।
এদিকে গভীর রাত হয়ে গেলেও ইমরান বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে চাচাতো ভাই হেলালসহ আরও ৩ জন ইমরানের ভ্যান ভাড়া করে ভাঙ্গুড়ার দিকে গিয়েছিল। পরে সন্দেহ হওয়ায় ভাঙ্গুড়া মেন্দা এলাকা থেকে হেলালসহ ৩ জনকে আটক করে চাটমোহরে নিয়ে আসে ইমরানের স্বজনরা। পরে তাদের গণধোলাই দিলে ইমরানকে রামচন্দ্রপুর মণ্ডলপাড়া শ্মশানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে স্বীকার করে। খবর পেয়ে শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে অভিযুক্তরা।
অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে বলে অভিযুক্তরা। তবে এই ঘটনার সঙ্গে অপর একজনকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, চাচাতো ভাইয়ের পরিকল্পনায় ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আটকরা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান ওসি
