উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে ইরান। এতে আবারো তেলের বাজারে আগুন জ্বলে উঠেছে। কৌশলগত মজুত থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার (১২ হাজার ২৯৫ টাকা) ছাড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তেলের দাম এক লাফে ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) রেকর্ড পরিমাণ তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরও তাতে বাজারের উদ্বেগ কমেনি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। কৌশলগত মজুত থেকে ঐতিহাসিকভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনাও বাজারের উদ্বেগ পুরোপুরি প্রশমিত করতে পারেনি। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই দাম ৩৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার: উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলা বাড়তে থাকায় পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাহরাইনে জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বুধবার ওমানের বন্দরনগরী সালালাহতে জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক কার্গো জাহাজকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় তিনজন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, আর ২০ জনকে উদ্ধার করেছে ওমানের কোস্ট গার্ড। ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, এর কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বা সেখানে মাইন পেতে রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল; কারণ সেটি তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে।
এ ছাড়া তারা সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে না। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
