চট্টগ্রামে র্যাবের অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গতকল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলো- চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার মো. ইমরান (২১), আনোয়ারার পূর্ব গহিরা এলাকার মো. আনিস (২৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভাঙ্গারা এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫), আনোয়ারার করুশকুল এলাকার মো. আলী (৪৭) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর কলাকুপা এলাকার মো. রুবেল (২৭)। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে একটি বাল্কহেড জাহাজে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীর দিকে আনার খবর পেয়ে র্যাবের আভিযানিক দল বাল্কহেডটির গতিবিধি অনুসরণ করে।
একপর্যায়ে বাল্কহেডটি ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নোঙর করে। এ সময় নৌকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। পরে বাল্কহেডটির ইঞ্জিন রুমে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আটক ব্যক্তিরা মূলত শ্রমিক হিসেবে বাল্কহেডে কাজ করতো এবং নির্দিষ্ট স্থানে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে ছিল। তারা এ কাজের জন্য প্রত্যেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল। ইয়াবার চালানটি মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় পাচারকারীরা বিকল্প হিসেবে সমুদ্র ও নদীপথ ব্যবহার করছে। আটক ব্যক্তিদের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
