পিতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতোই হুঙ্কার দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আহত অবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধই রাখতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলাও চলতে থাকবে। বন্ধ করে দিতে হবে সব মার্কিন ঘাঁটি। তার এই বক্তব্য বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপক পড়ে শোনান। তবে মোজতবা খামেনি নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। উল্লেখ্য, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে ভয়াবহ হামলা চালায় তখন মোজতবা খামেনির পিতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার কন্যা, জামাই, নাতি এবং নিজের স্ত্রী নিহত হন। মোজতবা খামেনি আহত হয়ে বেঁচে যান। পরে তাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো চালু থাকলে সেগুলোতেও হামলা হতে পারে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। ইরানের এই নেতা যুদ্ধে নিহতদের বদলা নেয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান তার শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। তিনি বলেন, যদি তা না দেয়া হয়, তাহলে ইরান তাদের ‘সম্পদ থেকে (ক্ষতিপূরণ) নিয়ে নেবে’ অথবা একই মাত্রায় সেগুলো ধ্বংস করবে। একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ করার জন্য তিনটি শর্ত তুলে ধরেন। শর্তগুলো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যেকোনো সমাধানে ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে দেশটি যেন আর কোনো হামলার মুখে না পড়ে, সেই গ্যারান্টি থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান যুদ্ধের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেন। তিনি লিখেছেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমি আবারো এ অঞ্চলে শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছি। জায়নবাদী শাসন ও যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে এই যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি।
ওদিকে বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের অবিরাম হামলার কারণে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা ইরানের ওপর অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। ইরান চেষ্টা করছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এমন মাত্রার চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আরেকটি হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের আক্রমণ চলতেই থাকবে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এমনকি যুদ্ধবিরতি বা যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় ঘোষণাও হয়তো এই সংঘাত থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
