মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে বাঁচতে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে পালিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা বলছেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের আবারো কাজে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ঢাকা বিমানবন্দরে দেখা গেছে, অনেক শ্রমিক বিমানে ওঠার আগে পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরছেন এবং চোখের পানিতে বিদায় জানাচ্ছেন। তারপর আবার বিদেশে তাদের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাকিব সৌদি আরবে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ফিরে যেতে ভয় লাগে। খারাপ লাগে। এটাই স্বাভাবিক। তার নতুন স্ত্রী ও বড় পরিবারকে পেছনে রেখে তিনি আবার সৌদি আরবে যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, কে জানে কী হতে পারে? সাকিব সৌদি আরবে চার বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তিনি নিজের বিয়ের জন্য দেশে এসেছিলেন। বিমানবন্দরে বিদায়ের সময় তার ২৬ বছর বয়সী ভাই মনিরুল ইসলাম তাকে জড়িয়ে ধরেন। উল্লেখ্য, প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করেন। যার বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যে। এর মধ্যে মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই সৌদি আরবে কর্মরত।
তবে যুদ্ধের ছায়া তাদের জীবনের ওপর বড় হয়ে ভর করছে। রহমান ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, হাজার হাজার শ্রমিক উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরতে অপেক্ষা করছেন। আর ধীরে ধীরে কিছু বিমানবন্দরে ফ্লাইট আবার চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, ৪ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। আর প্রতিটি ফ্লাইটে প্রায় ৩০০ বা তার বেশি যাত্রী বহনের সক্ষমতা ছিল। এখন কিছু ফ্লাইট আংশিকভাবে আবার চালু হওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকরা সেগুলোতে যাতায়াত শুরু করেছেন।
