ঈদের আগে অসহায় ও অতিদরিদ্র দুস্থ পরিবারের মাঝে সহায়তা করার জন্য সরকার ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করছেন। দরিদ্র পরিবারের সেই মানুষরা কোমর সমান পানিতেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে লাইন দিয়ে চাল নিচ্ছে। গতকাল এমনটাই ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের ধনাগোদা নদীর চরপাথালিয়া এলাকায়। এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ‘ভাই আমরা গরিব মানুষ, কষ্ট আমগো সহ্য অইয়া গেছে। ঈদে সরকার আমগো মতন গরিব মানুষগো চাল দিতাছে এইডাই বড় কথা। আর নদীর পানি আবার কস্তুরী মইধ্যে নদীত নাইম্মা চাউলের বস্তা মাথাত লইয়া আইতে তো কষ্ট অইবোই। আমরা এইসব কিছু মনে করি না।
এই চাউল না নিলে আমাগো চলবো কেমনে।’ তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুলতানাবাদের ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও গোডাউন থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে মতলব দক্ষিণ উপজেলার গোডাউন থেকেই মালামাল এনে তাদের এলাকায় বিতরণ করে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই মালামাল তাদের নিজস্ব গোডাউনে সংরক্ষণ না করে মতলব দক্ষিণ থেকে নদী পার হয়ে সুলতানাবাদের পাড়ে ট্রলারের মধ্য থেকে নদীর পাড়েই বিতরণ করে আসছেন। ফলে এই ইউনিয়নের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরেই এ জাতীয় দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে মালামাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান গাজী, ইদ্রিস আলী ও মোবারক উল্লাহর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধনাগোদা নদীর এই অঞ্চল বছরের ৮ মাসই কচুরিপানা জমাট বেঁধে থাকে। ফলে হত দরিদ্র পরিবার, নদীর অভয়াশ্রম হোক জাটকা বা মা ইলিশ মৌসুমেও জেলেদের জন্য আসা মালামাল গম-চালবাহী ট্রলারটি নদীর তীরে লাগানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে কোমর, কখনো হাঁটু সমান পানি ও কচুরিপানা ভেঙে ট্রলারে উঠে তার মালামালের বোঝা মাথায় করে নিয়ে আসতে হচ্ছে। তবে ইলিশ রক্ষা মৌসুমে একজন জেলে যখন ৪০ কেজি করে চাল-গম পায় তখন সেই মালামাল একজন নারী বা পুরুষের পক্ষে পানি-কচুরিপানা ভেঙে মালামাল মাথায় নিয়ে তীরে আসা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সুলতানাবাদ ইউপি’র সচিব ওয়াদুদ মিয়া জানান, আজকে কচুরিপানার কারণেই ট্রলারটা নদীর পাড়ে আনতে একটু সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া মানুষও দেরি সহ্য করতে চায় না, তারা ট্রলার তীরে আসার আগেই পানির মধ্যেই ট্রলারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং ট্যাগ অফিসারের সিদ্ধান্ত মতে আমরা এভাবে নদীর পাড়েই বিভিন্ন মালামাল বিতরণ করে থাকি। চাল বিতরণ তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এই ইউনিয়নে চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার এবং আজকেই চাল বিতরণ করা হবে আমি আজই সকাল ১০টার পরে জানতে পেরেছি। আমি ব্যস্ত থাকায় একজন স্টাফকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু পানির মধ্যে এভাবে চাল দেয়া হবে তা জানা ছিল না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মণি বলেন, নদীতে চাল বিতরণ এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। বিষয়টি এখনই দেখছি।
