কক্সবাজারের উখিয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সরকার অনুমোদিত কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে। বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুত করে রেখে অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট, এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতার অজুহাত দেখিয়ে উখিয়ার বেশির ভাগ ডিলার তাদের দোকান বন্ধ করে রেখেছেন। যদিও সরকারিভাবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। তারপরও বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। উখিয়ার স্থানীয় তরুণ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল প্রতি মাত্র ১ লিটার করে তেল দেয়া হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকদের কাছে অতিরিক্ত দামে অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের জন্য এই সীমিত সরবরাহ শুধু আইওয়াশ। আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উখিয়ায় সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে রেখেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পরে বেশি দামে তেল বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ডিলার দোকান বন্ধ রেখে গোপন স্থানে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রেখেছেন। সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করার জন্যই এই কৌশল নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিয়ানমারে তেল পাচারের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে হঠাৎ করে তেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পরিবহন চালকেরা। মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকরা বলছেন, তেল না পাওয়ায় অনেকেরই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কেউ তেল মজুত করে সংকট সৃষ্টি করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তেল মজুত করা হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
