প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সন্ত্রাসী রাফেল, পুলিশের খাতায় পলাতক

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সন্ত্রাসী রাফেল, পুলিশের খাতায় পলাতক

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি করা শহীদ সাগর হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম রাফেল (৩৮) এক আতঙ্কের নাম। পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি। তবুও এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হওয়া ছবিতে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মাহবুব আলম রাফেল মহানগরীর আকুয়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাগর হত্যা, সন্ত্রাস দমন আইনের মামলাসহ হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্তত ২০ মামলার আসামি। পুলিশের দাবি, রাফেল পলাতক। তবে, ফেসবুক আইডিতে সে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। একইসঙ্গে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ক্রিকেট খেলার ছবি ও কম্বল বিতরণের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করছেন।
জানা যায়, রাফেলের ভাই আপেলকে গত বছরের ৫ই নভেম্বর রাতে অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ আকুয়া খালপাড় তার আস্তানা থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জামিনে বেরিয়ে আসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নির্দেশক্রমে আকুয়া বাইপাসে নির্বিচারে গুলি চালায় মাহবুব আলম রাফেলের নেতৃত্বে মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুর রহমান আকাশ, যুবলীগ নেতা রিয়াদ আহমেদ, ইমন, জয়, নিশাদ, সজীবসহ অনেকেই। সবাই তার বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। হত্যা মামলার আসামি হলে কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দেয় সে। বর্তমানে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, দখলবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, মারামারি, লুটতরাজের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে ডজনখানেক মামলা। এরপরও প্রকাশ্যে তাদের অবাধ বিচরণ ও রামরাজত্বে পুলিশের নীরব ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আকুয়া দরবার শরিফ রোড খালপাড় নামক স্থানে মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছের বাসা ভাঙচুর করে দখলে নেয় রাফেল বাহিনী। দখলকৃত ঘরে নিয়মিত বসে মাদকের আড্ডা। মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী দুই ছেলে। তার বড় ছেলে আসাদের পা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর পঙ্গুত্বজীবন নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি। সন্ত্রাসী রাফেল বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলতে নারাজ। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখন এলাকার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। আমরা আতঙ্কের মাঝে রয়েছি। এরপর মোতালেব, কাজল মিয়া, কবীর মিয়া মুক্তিযোদ্ধা অফিসের তালা ভেঙে নিজেদের অফিস হিসাবে ব্যবহার করছে। এই অফিস ১০ বছর মামলা করে হাইকোর্ট থেকে রায় নিয়ে এসেছি। এখন মুক্তিযুদ্ধের অফিস সংস্কারের জন্য কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু দেড় বছর যাবত রাফেল বাহিনীর দখলে থানায় করা সম্ভব হচ্ছে না। সমপ্রতি স্থানীয় এক নারী তার দুই মেয়েকে তুলে নেয়ার চেষ্টায় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে রাফেলসহ ৭ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। ওই অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, নগরীর একটি কলেজের মাঠে বাদীর দুই দুই কিশোরী মেয়ে খেলা করছিল। খেলাধুলা শেষে পানি পান করতে গেলে রাফেল ও তার বাহিনী তাদের টেনে হিঁচড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় এগিয়ে আসলে কিশোরীদের শরীরে থাকা সোনার গহনা ছিনিয়ে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম রব্বানী বলেন, অভিযোগটি অনেক দিন আগের। নির্বাচনের কারণে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। মাহবুবুল আলম রাফেল ও তার বাহিনী সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তদন্ত করে অবশ্যই মামলা নেয়া হবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন