তিন দফা দাবিতে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সামনে অবস্থান করবো। একই সঙ্গে যারা এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে চান তাদেরকেও কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি বলে জানিয়েছেন এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান করে তিনি এসব কথা বলেন।
দাবিগুলো হলো-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের বিচার, আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও প্রেসিডেন্টের অভিশংসন।
আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পার হলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের অনেকেই এখনও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও যারা এই হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার এখনো দৃশ্যমানভাবে অগ্রসর হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিভিন্ন জায়গায় চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জামিন দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম নিয়েও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। শহীদ ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট সদিচ্ছা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে সংসদে থাকা জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনের সময় মূল দাবি ছিল শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। শেখ হাসিনার পতন ঘটলেও সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ৫ আগস্টের পর থেকেই শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া প্রেসিডেন্টের অপসারণের দাবি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠেছিল। কিন্তু সে সময় সাংবিধানিক সংকট ও অস্থিরতার আশঙ্কার কথা বলে সেই দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এখন কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘সংসদ আইনগতভাবে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে পারে। সংসদে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা—যারা গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে ছিলেন এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তারা এই দাবির পক্ষে অবস্থান নেবেন।’
এনসিপি’র মুখপাত্র বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে আজকের সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করলে সংসদ সদস্যদের ফ্যাসিবাদের শেষ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।’
এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন,‘ যদি তারা নিজেদের ভোটারদের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চান, তবে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের দাবি তুলতে হবে। সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য দেয়ার সময় কারা সেখানে উপস্থিত থাকেন এবং বক্তব্য শোনেন তা দেশবাসী দেখবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ ফ্যাসিবাদের পক্ষে ও বিপক্ষে—এই দুই অবস্থানে বিভক্ত হয়ে পড়বে।’
আসিফ মাহমুদ সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা প্রেসিডেন্টের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেন এবং অভিশংসনের দাবি তোলেন।

হারুন উর রশীদ
২ মাস আগেপ্রথম দুটি দাবি ঠিক আছে। রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশনের প্রয়োজন নেই! নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পুরাতন রাষ্ট্রপতি এমনিই চলে যাবেন। নাটক করার প্রয়োজন নেই!