যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ তেলের মজুত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বিশ্বের জ্বালানি পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ৩২ সদস্য দেশ সর্বসম্মতভাবে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এটি আইইএর মোট সরকারি মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সংস্থাটির ইতিহাসে আগের যেকোনো রিলিজের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর আইইএ সদস্য দেশগুলো ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, তেলের বাজার বৈশ্বিক। তাই বড় ধরনের সরবরাহ বিঘ্নের জবাবও বৈশ্বিক হওয়া দরকার। জ্বালানি নিরাপত্তাই আইইএর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।
সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজার প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় প্রতিটি দেশের জাতীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করে জরুরি মজুত ধাপে ধাপে বাজারে সরবরাহ করা হবে।
যুক্তরাজ্য তাদের জরুরি মজুত থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছরের শেষে দেশটির কাছে প্রায় ১২০ দিনের সমপরিমাণ তেল মজুত ছিল, যার সবই শিল্পখাতের কোম্পানিগুলোর কাছে সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সংরক্ষিত।
এই মজুত তেল রাখা রয়েছে বিভিন্ন রিফাইনারি, তেল টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উত্তর সাগরের অফশোর তেলক্ষেত্রে। মোট মজুতের প্রায় ১৫ শতাংশ নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানিসহ বিদেশি দেশগুলোতে রাখা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, তার দেশ ১৮ মার্চ থেকে বেসরকারি ও জাতীয় মজুত থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে। জাপানের মোট তেল আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।
পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ২ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জার্মানির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথেরিনা রাইখে বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, জার্মানি প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেল তেলের সমপরিমাণ মজুত ছাড়বে।
তিনি বলেন, আমরা এই অনুরোধ মেনে চলব এবং আমাদের অংশের অবদান রাখব, কারণ জার্মানি আইইএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
এই ঐতিহাসিক বাজার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রায় ২৬ দিনের সমপরিমাণ তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যতটা তেল সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই অঞ্চলে হামলার শিকার হয়েছে। বুধবারই তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বকে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।
১৯৭০-এর দশকের মধ্যপ্রাচ্যের তেল সংকটের পর প্রতিষ্ঠিত আইইএর সদস্য দেশগুলোকে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেল মজুত রাখতে হয়, যাতে সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগলে তা বাজারে ছাড়া যায়।
