মিরপুরের চেনা উইকেটে অচেনা এক গতির ঝড় উঠলো। এই ঝড়ের নাম নাহিদ রানা। তার গতির আগুনে পুড়ে ছাই হলো পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। আজ তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের শুরুটা দেখেশুনে করলেও দশম ওভারে দৃশ্যপট বদলে যায়। আক্রমণে আসেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। এসেই তিনি নিজের জাত চেনান। তার তোপে মাত্র ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ওয়ানডে সংস্করণে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। সব দেশ মিলিয়ে এটি তাদের অষ্টম সর্বনিম্ন। এর আগে ১৯৯৯ সালে নর্দাম্পটনে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ১৬১ রান। নাহিদ একাই ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার। টানা সাত ওভারের এক বিধ্বংসী স্পেলে তিনি তুলে নেন মূল্যবান ফাইফার। খরচ করেন মাত্র ২৪ রান। ক্যারিয়ারে আগের পাঁচ ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট পাওয়া নাহিদ রানা গতকাল নিজের শুরুর পাঁচ ওভারে নেন পাঁচ উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে আগের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। গতির ঝড় তুলে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন নাহিদ। ইনিংসের দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে শেষ বলে আঘাত হানেন নাহিদ। পয়েন্টে ক্যাচ দেন অভিষিক্ত সাহিবজাদা ফারহান। এরপর তাঁর শিকারে পরিণত হন শামিল হুসাইন। নাহিদের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে তিনি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হন। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি নাহিদ আদায় করেন দুর্দান্ত বাউন্স ও মুভমেন্ট। তার গতির জবাব খুঁজে পায়নি পাকিস্তান। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে মাজ সাদকাতকে ফেরান তিনি। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে আক্ষরিক অর্থেই খাদের কিনারে ঠেলে দেন এই তরুণ পেসার। এরপর তিনি তুলে নেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। নিজের পঞ্চম ওভারে সালমান আলী আগাকে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন নাহিদ। এতে পূর্ণ হয় তার ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি। নাহিদের গতির তোপে দিশেহারা পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করেন স্পিনাররাও। অধিনায়ক মিরাজ নিজেই বল হাতে ভেলকি দেখান। অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। দলীয় ৭০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এত কম রানে এর আগে ৬ উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। এরপর হুসাইন তালাত ও পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। মাত্র ২৯ রান খরচার বিনিময়ে ৩ উইকেট ঝুলিতে পোরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একপ্রান্তে নাহিদের গতি ও অন্যপ্রান্তে মিরাজের ঘূর্ণিতে ৮১ রানেই ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর তাসকিন আহমেদ অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে বাধ্য করেন মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। প্রথম স্লিপে সহজ ক্যাচ লুফে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশ’র আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে সফরকারী দলটি। চরম লজ্জার মুখে পড়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ উইকেটে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৩২ রান। ফলে দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হয়। ফাহিম করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান। ৪৭ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান ৬টি চার ও একটি ছক্কা। অবশেষে ৩১তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার কাটারে পরাস্ত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ফাহিম। এর মধ্য দিয়ে ১১৪ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।
মিরপুরে নাহিদ ‘মিসাইল’
স্পোর্টস রিপোর্টার
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
