সংসদে বিরোধীদের কন্ঠরোধ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব বুধবার লোকসভায় ধ্বনি ভোটে খারিজ হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বুধবার দশম ঘণ্টা বিতর্কের শেষে বিরোধীরা ভোটাভুটির দাবি জানালেও ধ্বনি ভোটের নির্দেশ দিয়েছিলেন সভার সভাপতি বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদের তরফে অনাস্থা নোটিশ জমা দেওয়ার পরেই ওম বিড়লা রীতি মেনে সভা পরিচালনা থেকে বিরত ছিলেন। বিতর্কে অংশ। নিয়ে বিরোধীরা বারবার বিরোধী দলনেতা রাজীব গান্ধীকে সভায় বলতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন। বুধবার বিতর্ক-পর্বে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘সংসদে প্রায় কোনও গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। কারণ, বিরোধীদলের সদস্যদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। আমাদের যদি নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়, তা হলে জনগণের জন্য কীভাবে লড়াই করব?
তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনাস্থা বিতর্কে ‘বিরোধী শিবিরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শাসক শিবিরের অন্য বক্তাদের মতোই শাহের আক্রমণেরও মূল লক্ষ্য ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলকে আক্রমণ করে শাহের দাবি, ‘‘রাহুল অভিযোগ করেন, তাঁকে নাকি বলতে দেওয়া হয় না। আসলে তিনি বলতেই চান না।’’ এর পরেই বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান পেশ করে শাহ বলেন, ‘‘সপ্তদশ লোকসভায় রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ছিল ৫১ শতাংশ। সেখানে সাংসদদের গড় উপস্থিতির হার ৬৬ শতাংশ, ষোড়শ লোকসভায় তাঁর (রাহুল) উপস্থিতি ছিল ৫২ শতাংশ। সাংসদদের গড়ে ৮০ শতাংশ হাজিরা ছিল ওই লোকসভায়।’’
