মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি

হঠাৎ করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জোটের ইরানে হামলা ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনায় প্রথমে নিরব ছিল ভারত। এজন্য দেশের মধ্যে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল মোদি সরকার। ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতি নিয়ে চলছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকের পর ভারতের পক্ষ থেকে যুদ্ধে যুক্ত দুই পক্ষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও ইরান নিয়ে ভারতের মনোভাবের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত। দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি’র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। জয়শঙ্কর তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই কথোপকথনের তথ্য জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি আরাগচির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং উভয় পক্ষই ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
একই দিনে জয়শঙ্কর আন্তর্জাতিক স্তরেও একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি’র সঙ্গেও কথা বলেছেন জয়শঙ্কর। তাজানি জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি ভারতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে আগ্রহী। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
এদিকে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা ভারতের তেলের জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারত সরকার। যদিও এই বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই বিষয়ে ইরান সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপ চলছে ভারতের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন