মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গালফ উপকূল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘ডুমসডে প্লেনের’ আনাগোনার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক সূত্র ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কৌশলগত কমান্ড বিমান ই-৬বি মার্কুরি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার উড্ডয়ন করেছে এবং এর কিছু ফ্লাইট পারস্য উপসাগর অঞ্চলের দিকে গেছে বলে খবর দিয়েছে বৃটেনের ইংরেজি ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মেইল।
এতে বলা হয়, এই বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও কার্যকর থাকার জন্য তৈরি। এগুলো আকাশে ভাসমান একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনসহ বিভিন্ন সামরিক ইউনিটে পৌঁছে দিতে পারে।
সামরিক ভাষায় এই মিশনের নাম ‘টেক চার্জ অ্যান্ড মুভ আউট’। এর মাধ্যমে স্থলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও আকাশ থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে অন্তত দুটি ই-৬বি মার্কুরি উড়তে দেখা গেছে। একটি বিমান গালফ উপকূল থেকে উড্ডয়ন করে মেরিল্যান্ডের নৌঘাঁটিতে অবতরণ করে এবং আরেকটি নেব্রাস্কার বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে আবার সেখানে ফিরে আসে। পরে সামরিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আরও কয়েকটি বিমান আটলান্টিক পেরিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে গেছে।
এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বিমান সাধারণত যুদ্ধ প্রস্তুতি, মহড়া বা শক্তির প্রদর্শনের অংশ হিসেবে আকাশে ওঠানো হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তেহরানে হামলার পর ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ইরানের মিসাইল হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ও চীন পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
প্রায় ৪০ বছর আগে তৈরি হলেও ই-৬বি মার্কুরি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিমান। প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ এই বিমানগুলো আকাশে টানা কয়েকদিন অবস্থান করতে পারে এবং প্রয়োজনে আকাশেই জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘ সময় মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
