পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্যাহত তেল ও জ্বালানি সরবরাহ মোকাবিলায় ভারত সরকার জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশটির তেল ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে সকলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার তার উৎস কৌশল সম্প্রসারণ করছে এবং আরও অনেক দেশ থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে ৪০টি দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করছে সরকার।
এলপিজি উৎপাদন, সিএনজি এবং পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দিয়েছে, আমদানি করা গ্যাস অগ্রাধিকারহীন খাত থেকে সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠাতে হবে। সরকার গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার এবং পাইপের মাধ্যমে গ্যাস পরিবহণ খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সক্রিয় হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে।
‘উল্লেখ্য, ভারত প্রতিদিনের ১৯১ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তেল ও গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নতুন ভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এলপিজি উৎপাদন, সিএনজি এবং পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস (পিএনজি)-এর চাহিদার ১০০ শতাংশ, জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশ এবং সার কারখানাগুলির চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণে বরাদ্দ করা হয়েছে। অগ্রাধিকারের তৃতীয় স্থানে রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদন খাত এবং অন্যান্য শিল্প গ্রাহক— যাদের গত ছ’মাসের গড় গ্যাস ব্যবহারের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা হবে। অগ্রাধিকারের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে সব সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (সিজিডি) সংস্থাকে, যারা শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের তেল ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার আরও অনেক দেশ থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে।
আগে, ভারত ২৭টি দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি সংগ্রহ করতো, কিন্তু চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে সরকার তার নেটওয়ার্ক প্রসারিত করেছে এবং এখন প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি সংগ্রহ করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দেশের জ্বালানি চাহিদা রক্ষার জন্য কেন্দ্র তার সংগ্রহের সীমা প্রসারিত করেছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি ইতিমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জ্বালানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য সরবরাহকারী দেশের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
যুদ্ধের ফলে ব্যাহত সরবরাহ মোকাবিলায় ভারত ৪০টি দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি আনার ব্যবস্থা করছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
৩ মাস আগে
১১ মার্চ (বুধবার), ২০২৬, ১ঃ৪৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
