আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রের চরিত্রের প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রের চরিত্রের প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের এক জটিল সময় অতিক্রম করছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করছে এবং দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে জটিলতা সৃষ্টি করছে।
কিন্তু এই সংকট শুধু অর্থনীতি বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক একটি প্রশ্ন—রাষ্ট্রের নাম বা আদর্শ নয়, বরং তার চরিত্র কতটা কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক। কারণ ইতিহাস বলে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, আইনের শাসন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ গত দুই দশকে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তার, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও বৈষম্য বিশ্লেষণ সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মোট দারিদ্র্যের হার ৩৭.১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে নেমেছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অগ্রগতির ধারায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা ৬.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
একই সঙ্গে দারিদ্র্যের হার আবার কিছুটা বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২১.২ শতাংশে পৌঁছেছে এবং অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০.৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকেত। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়া ২১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৮ লাখই নারী।
এই তথ্যগুলো দেখায় যে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রের ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো শক্তিশালী করাও সমানভাবে জরুরি। কারণ উন্নয়নের পরিসংখ্যান যতই ইতিবাচক হোক না কেন, যদি নাগরিকরা মনে করেন আইন সবার জন্য সমান নয় বা প্রশাসন কার্যকর নয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এই আস্থার সংকটই দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
এই অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়; এটি বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক উত্তেজনা, পাল্টা হামলা, কৌশলগত জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
ইতিহাসে এই পথকে ঘিরে সংঘাতের নজিরও রয়েছে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষদিকে পারস্য উপসাগরে ট্যাঙ্কার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং প্রায় ৪৫০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বীমা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সংঘাতেও একই ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয় তাহলে তেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এই বাস্তবতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশটি প্রতি বছর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ টন তেল আমদানি করে এবং এর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি এলএনজি কার্গো আমদানি করে এবং কাতার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসনির্ভর, তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির মোট ব্যয় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এই ব্যয় আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এলএনজি বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম অনেক সময় দ্রুত ওঠানামা করে। যেখানে আগে প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে ছিল, সেখানে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে তা ২৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো প্রবাসী শ্রমিকদের আয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং ওমান বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার এবং এর একটি বড় অংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেখা দিলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে কোনো দেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। কিন্তু একটি রাষ্ট্র তখনই এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে, যখন তার অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী হয় এবং আইনের শাসন কার্যকর থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও এই বাস্তবতাই দেখায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা আদর্শ অনুসরণ করেও অনেক দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। কিন্তু তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা, আইনের সমান প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। এখানে শাসনতন্ত্র বা রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—আইনের শাসন কতটা কার্যকর, প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ এবং নাগরিকরা কতটা ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। কারণ উন্নয়নের পরিকল্পনা তখনই টেকসই হয়, যখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে যে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে রাষ্ট্রের স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
মন্ত্রীসভা এবং সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়নের একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলে নীতি বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র প্রায় ৪.৬ থেকে ৫.৭ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। আগামী দশকে এই হার বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে অপচয় কমানো সম্ভব হবে। প্রবাসী শ্রমবাজার রক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা এবং নতুন বাজার খোঁজার পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধুমাত্র আঞ্চলিক সংঘাত নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাষ্ট্রের চরিত্র—আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা কতটা শক্তিশালী।
রাষ্ট্রের নাম বা রাজনৈতিক আদর্শ যাই হোক না কেন, যদি আইন সত্যিকার অর্থে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয়, যদি নাগরিকরা বিশ্বাস করতে পারেন যে অন্যায়ের শিকার হলে তারা ন্যায়বিচার পাবেন, তাহলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেই আস্থা তৈরি করাই আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

লেখক: শিক্ষক, পরিসংখ্যান বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন