হাদি হত্যায় নাটকীয় মোড়, অনেকের ঘুম হারাম

হাদি হত্যায় নাটকীয় মোড়, অনেকের ঘুম হারাম

ফন্ট সাইজ:

অন্তহীন কৌতূহল। বিস্তর গুঞ্জন। টানটান উত্তেজনা। একটিমাত্র খবরকে কেন্দ্র করেই। আলোচনার জাল চারদিকে। সীমান্ত পেরিয়ে ওপারেও। খবরটা এলো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। কারণ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এক মোড় নিয়েছিল। ১২ ডিসেম্বরের কথা। ক’দিন আগেই নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। ওসমান হাদি নিজেই একজন প্রার্থী। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি টিভির পর্দায় তখন সরব। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরমধ্যেই ঘটে যায় নির্মম-নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ড।

রাজনীতিতে তখন ওলট-পালট অবস্থা। অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে যায় নির্বাচন। ভারতবিরোধী রাজনীতি আরও চাঙ্গা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের হাত রয়েছে- এমনটাও বলা হয়। ইউনূস প্রশাসন তটস্থ। শাহবাগে লাগাতার অবস্থান শুরু হয়। সবার দৃষ্টি শাহবাগের দিকেই। সিঙ্গাপুর থেকে তখন খবর আসে ওসমান হাদি আর নেই। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী আর ছায়ানটে চালানো হয় আগুন সন্ত্রাস। প্রফেসর ইউনূস সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন। পরিস্থিতি তখন অশান্ত, উত্তাল। বলাবলি ছিল হত্যাকারী অবশ্যই ভারতে চলে গেছে। যদিও আখেরে তা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু কীভাবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হলো এ নিয়ে পর্দার আড়ালের অনেক খবর চাউর হয়ে আছে। দু’দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানই নাকি এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দার হাতে খবর ছিল- শ্যুটার মাসুদ আর আলমগীর দু’জনেই পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে রয়েছে। অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন তারা। যদিও তৎকালীন সরকার তাদের কোনো কার্যক্রমই আমলে নেয়নি। ১৮ মাস শাসনকালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের দেয়া কোনো তথ্য যাচাই বাছাই করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে তখনও তাদের আড়ালে রাখা হয়।

অবিশ্বাস আর সন্দেহ সরকারপ্রধানকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল। সরকারের ভেতরকার এবং বাইরের একটা শক্তি মিলে নানা খেলায় মত্ত ছিল। অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল- নির্বাচন বিলম্বিত করা। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের ব্যাপারে ছিল অবিচল। তারা সরকারকে বারবারই বলেছে, নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী ২২শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্ব পান। এর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ভারত সফরে যান। সেখানে তিনি ‘র’ প্রধান পরাগ জৈনর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সম্ভবত এই বৈঠকে জেনারেল কায়সার কিছু তথ্য আদান-প্রদান করেন। এই তথ্যের সূত্র ধরেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন ওসমান হাদির হত্যাকারী পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। এর পরপরই তাদেরকে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনেই শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীরকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। এই যখন অবস্থা তখন ঢাকায় অনেকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। হাদি হত্যার পেছনে আসলে কারা জড়িত ছিল। কারা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল। কারা চেয়েছিল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে!

গোয়েন্দাদের অনেকেই নিশ্চিত হয়েছেন- আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি বৃহৎ খেলার অংশ। ইউনূস সরকারকে হটিয়ে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন কোনো পরিকল্পনা ছিল তাদের। তদন্তে বের হয়ে আসবে এর পেছনে কোন শক্তি কাজ করেছে।


(লেখাটি কপিরাইটের আওতাভুক্ত)

নাহিদ আহমদ মুন্না

২ মাস আগে

আশাকরি এখন প্রকৃত অপরাধী ধরা পরবে। শতভাগ শিওর আমি, এই হত্যাকান্ডের পিছনে জামাত, এনসিপির হাত ছিলো, তারাই শুটার ফয়সাল করিমকে হাদী ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো।

Abdul Malek

৩ মাস আগে

হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে জামায়াত ও এনসিপি জড়িত।।। এটাই চিরন্তন সত্য।।

শোভন

৩ মাস আগে

জজ মিয়া নাটক হবে না তো

মাহফুজ হোসেন

৩ মাস আগে

হাদি ছিলেন সহজ সরল সত্য ভাষনি মানুষ আর সেই কারনে টার্গেট করে হাদি কে - হাদির চাওয়া একটি শহীদি মৃত্যু আর যে তাকে হত্যা করবে তার ফাঁসি।

মোঃকবির আহমেদ, বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ

৩ মাস আগে

নির্বাচন পিচানোর জন্য যারা মাঠ গরম করছে।তারাই হাদীকে হত্যা করেছে।আর ইউনুস সরকারকে আরো দুই বছর থাকার জন্য হদীকে হত্যা করেছে।যারা এই দেশ চাইনি তাদের দ্বারা সবকিছু করা সম্ভব।

সফিকুল ইসলাম

৩ মাস আগে

হাদীর খুনি যেই হোক সঠিক তদন্ত করে বের করতে হবে। এবং এই খুনের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।

সৈয়দ নজরুল হুদা

৩ মাস আগে

এখনই মন্তব্য করা কঠিন, তবে নাটের গুরুরা ভিষন শক্তিশালী।

সাইফুল ইসলাম

৩ মাস আগে

বর্তমান ডিজিএফআইয়ের প্রধান ইন্ডিয়ান র প্রধানকে তথ্য দেওয়ার পর খুনি গ্রেফতার হয়-এই কথাটা অবিশ্বাষ্য, কারন র এর মত গোয়েন্দা দফতর এই ধরনের তথ্য আগেই সংগ্রহ করে রেখেছে, র এটাও জানতো খুনিরা কোথায় আছে।
এখন হয়তো দুই খুনিকে এদেশের হাতে তুলে দিয়ে দেখাতে চাইবে তারা এদেশের সাথে বন্ধুত্ব পুনরায় শুরু করতে চায় ।
ইন্ডিয়া যদি সত্যি সুসম্পর্ক শুরু করতে চায় তাহলে হাসিনাকে এবং তার দলের অন্যদের ফেরত দিক।
তারা যদি সত্যি বন্ধু

Hasan

৩ মাস আগে

হাদীকে টাকা দেওয়ার নাটক করেছিলো যারা, হাদীর সাথে খুনীদের পরিচয় করালো যার এবং হাদীকে বিক্রি করছে যারা তারাই হাদীর খুনি বলে সাধারণ মানুষ মনে করে।

A R Sarker

৩ মাস আগে

এটা একটা এলোমেলো নিউজ। পাঠকের জন্য গোছানো কঠিন। এমন নিউজ কাম্য নয়

জনতা

৩ মাস আগে

স্যারের প্যান্ট কী বারবার ভিজে যাচ্ছে?

এম.টি রক্সি

৩ মাস আগে

যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে ছেয়েছিল তারা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে। কারণ তারা ছেয়েছিল তাকে হত্যা করে দেশে একটা অরাজকতা তৈরী করা। তাই সুটারকে বাংলাদেশে এনে এই হত্যাকান্ডের সাথে কারা কারা জড়িত জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা। জড়িতদের মুখোশ উম্মুচন করা।

NAHID HOSSAIN

৩ মাস আগে

এই হত্যার সাথে সম্পূর্ণ ভারত এবং আওয়ামিলীগ জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নেই।এর বাহিরে যদি কোনো তদন্ত রিপোর্ট আসে এর মানে বুঝতে হবে ওইটা ভুয়া এবং সাজানো নাটক।

Sohag

৩ মাস আগে

কেন ভাই? হত্যার টেবিলে কি আপনিও ছিলেন? তাই সব জানেন আপনি। একজন হত্যাকারী কিভাবে, কার সহযোগিতায় পালিয়ে গেছে, সেটা অবশ্যই আমাদের জানা দরকার। একটা সরকার থাকার পরেও ৬ ঘণ্টার ভিতর কিভাবে পালিয়ে যায়। আওয়ামীলীগ তো ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে সুযোগ কে করে দিলো? আমরা জানতে চাই।

Morsidul Alam

৩ মাস আগে

আলীগ না থাকলে ও আপনার মত সুপ্ত আলীগ ছিল। তাদের কে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে যেভাবে তাদের কৃতকর্মের জন্য তাৎক্ষণিক শাস্তির বিধান রাখা দরকার ছিল সেটা ইউনুস সরকার করে নাই।যার কারণে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে যায়।

Shah Alam Bhuiyan.

৩ মাস আগে

কোন লাভ হবে না। কার ও নাম ফাঁস হবে না।
কেউ গ্রেফতার হবে না। কারন এর নাম বাংলাদেশ।

হাবিব

৩ মাস আগে

আসল খুনিদের বাঁচানোর এগুলো নতুন প্রপ্রাগান্ডা আর তথ্যসন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

জনতা

৩ মাস আগে

আলবটরদের তাই মনে হবে। তা তোদের ইউনুস সরকারতো জাতিসংঘে চিঠি দিয়েই রাখছে, তাদের দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত করে নিস, কয়েকটা দিন প্যাম্পারস পরে থাক!

হাবিব

৩ মাস আগে

আসল খুনিদের বাঁচানোর এগুলো নতুন প্রপ্রাগান্ডা আর তথ্যসন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

Kazi

৩ মাস আগে

পৃথিবীতে নিকৃষ্ট মন মানসিকতা কিছু তথাকথিত শিক্ষিত বাঙালীর মধ্যে প্রবল। যারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ফায়দা নিতে মরিয়া।
১৯৯৬ সালে আজমীর শরিফ জিয়ারত করতে ভারত হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। ঐ দেশের সাধারণ মানুষের সততা ও অথিতীর নিরাপত্তার চিন্তা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্ত বাংলাদেশে হলে আমরা স্বামী স্ত্রীকে মেরে সব লুটপাট করে নিয়ে যেত।

রূমেল

৩ মাস আগে

ভারতে গিয়ে বিদেশী মহিলারা ধর্ষণের শিকার হন এমন খবর প্রায়ই আসে...এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি...নিজের দেশের বদনাম করে যারা তারা ভারতে চলে গেলেই পারে।

জনতা

৩ মাস আগে

কাজী দাদা আপনি আজমীর গিয়েছেন তাই রক্ষা পেয়েছেন, তা একটু কলকাতায় যেতেন তাহলে বুঝতেন আতিথেয়তা কত প্রকার এবং কী কী?

Obak

৩ মাস আগে

Jamat for Sure Bairer Keu o Thakte Pare

মন্তব্য করুন