মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘দর্শনগতভাবে কিছুটা ভিন্ন’ অবস্থানে। এর আগে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল, গত মাসের শেষ দিকে ইরানে হামলার বিষয়ে ভ্যান্স অভ্যন্তরীণভাবে কিছু আপত্তি প্রকাশ করেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরান ইস্যুতে তার ও ভ্যান্সের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে কি না। ট্রাম্প বলেন, তিনি তা মনে করেন না। ট্রাম্প বলেন, এই বিষয়টিতে আমাদের মধ্যে ভালো সমঝোতা আছে। আমি বলব, দর্শনগতভাবে সে আমার থেকে একটু আলাদা ছিল। হয়তো সে যুদ্ধ শুরু করার ব্যাপারে আমার মতো এতটা উৎসাহী ছিল না। তবে সে যথেষ্ট সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করেছি এটা আমাদের করতেই হতো। আমার মনে হয়েছে আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা যদি এটা না করতাম, তারা আমাদের ওপরই করত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এবিসি নিউজ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন এবিসি নিউজ জানিয়েছে ভ্যান্স সাধারণত বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে থাকেন। তিনি ইরানে হামলার বিষয়ে নিজের আপত্তি অভ্যন্তরীণভাবে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এমন তথ্য দিয়েছে। তবে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর ভ্যান্স সামরিক অভিযানের সমর্থনে মনোযোগ দেন বলে সূত্রটি জানায়। এটি প্রথমবার নয় যে ভ্যান্স সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক সদস্য ভ্যান্স ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
গত বছর ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে ভ্যান্স ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ খোলা রাখতে হুতিদের ওপর একতরফা মার্কিন হামলা চালানো ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, যেখানে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ ধরনের উদ্যোগে তাদের অংশীদারিত্বের খরচ বহন করার কথা বলেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার কয়েক দিন আগে ভ্যান্স দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায় তাহলে ইরানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনাই নেই।
সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেন। তবে তিনি এটাও বলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও অনেক দিন চলতে পারে। ভ্যান্স বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এই দেশকে এমন একটি বহু-বছরের যুদ্ধে জড়াতে দেবেন না, যার কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য বা শেষ নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে বিষয়টি আলাদা এবং অতীতের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের থেকে ভিন্ন, তা হলো তিনি স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া দেশকে যুদ্ধে পাঠাবেন না।
তিনি আরও বলেন, তার লক্ষ্য পরিষ্কার। ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায় এবং ভবিষ্যতে কখনো সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা না করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার করে। বিষয়টি খুবই পরিষ্কার ও সহজ। আর এর মানে হলো আমরা ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো সমস্যায় পড়ব না।
