অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি। তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্ত্রীদের বেছে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, সবাই বেতন নিয়ে বাড়িতে আসে। কিন্তু পরিবারের নারী প্রধানের কোনো বেতন নাই। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই নারী প্রধানকে ক্ষমতায়ন করতে হবে। এই নারী প্রধানের হাতে একটি অর্থনৈতিক সামর্থ্য আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে সীমিত সম্পদের মধ্যেও বড় সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এই কর্মসূচিতে পরিবারের নারী প্রধানদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সে (নারী) যাতে সমাজে সমাদৃত হয়, সে যাতে নিজে খরচ করতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটার একটা প্রতিফলন ঘটবে। সুতরাং এই কার্ডটি শুধু নারীর ক্ষমতায়ন নয়। পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আগামী দিনে বিশালভাবে এটার একটা প্রতিফলন ঘটবে। ফ্যামিলি কার্ডকে একটি স্মার্ট কার্ড হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশে কোনো প্রকল্প বছরের পর বছরেও বাস্তবায়ন করা যায় না। কিন্তু নেতৃত্ব সঠিক হলে এবং সদিচ্ছা থাকলে এক মাসের মধ্যেও তা সম্ভব-আমরা সেটিই প্রমাণ করেছি। এত অল্প সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সময় বলা হয় সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করেন না। কিন্তু এই প্রকল্প প্রমাণ করেছে, তারা চাইলে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমাজকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করলে অল্প সময়েই এর সুফল পাওয়া যায় এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)’ পদ্ধতির মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি স্থানান্তর করা হবে। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি কিস্তিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া কার্ডগুলো স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কার্ড বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডাটাবেজ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।
