ভারতে এলপিজি সংকট, বন্ধের মুখে হোটেল-রেস্তরাঁ

জরুরি বৈঠকে মোদি

ভারতে এলপিজি সংকট, বন্ধের মুখে হোটেল-রেস্তরাঁ

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে। সরকার বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সাধারণ এলপিজি সিলিন্ডারের বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ফলে গ্যাস সংকটের আতঙ্কে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের দোকানের সামনে সাধারণ মানুষের বিশাল লাইন দেখা যাচ্ছে। দেশের একাধিক শহরে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূলত হোটেল, রেস্তরাঁগুলোতে।

এই আবহে জ্বালানিমন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে।

এদিকে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ে ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে! মঙ্গলবার এমনটাই দাবি করেছে, সেখানকার হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলোর সংগঠন ‘আহার’। ভারতের অন্যান্য শহরেও একাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাতে গ্যাসের সংকট না হয়, তার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করেছে। তেল শোধনাগার এবং বেসরকারি পেট্রো কেমিক্যাল সংস্থাগুলোকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের উৎপাদন সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্তরে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে।

মুম্বইয়ের হোটেল সংগঠনের দাবি, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান আগের মতো স্বাভাবিক না হলে, আগামী দু’দিনের মধ্যে শহরের ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কয়েক শ’ তেলের ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালি থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে তেল কেনা হচ্ছে। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে ভারত।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল দেশে। এদিকে আমদানি করা গ্যাসের মধ্যে থেকে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এসেছিল আরব দেশগুলো থেকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতের গ্যাস সংকটও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন