মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আয়েশার দাফন হবে সৈয়দপুরের হাতিখানায়

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার মিরপুরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বিমান বাহিনীর সদস্য সৈয়দপুরের আয়েশা সিদ্দিকা অন্যনার পাড়ায় চলছে শোকের মাতম। শোকে ভারী হয়ে উঠেছে ওই পাড়ার পরিবেশ। প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করছেন। এ চিত্র মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকার। আশেয়া সিদ্দিকা অনন্যা ওই এলাকার আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে এবং তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, আয়েশা সিদ্দিকা চার বছর আগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন। সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকার মিরপুর-২ এর বহুতল ভবনের শপিংমলে যান। বেলা ১টা ৫২ মিনিটে ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ভবনে আটকা পড়েন অনেকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আটকা পড়া আহত ২৪ জনকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে বিমানবাহিনীর দুই সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা ও শেখ রাকিবুজ্জামান। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার পরিবার খুব গরিব, সে চাকরি পাওয়ার পরে তার পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছে। তবে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ছোট বোন সূর্বণা আকতারকে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ কল দিয়ে জানায়, মিরপুরে শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় শেখ রাকিবুজ্জামান নামে বিমানবাহিনীর সদস্য মারা গেছেন এবং অনন্যা নিখোঁজ রয়েছেন। পরে সেটা জানার পরে তার বাবা-মা ও ছোট বোন গতকাল রাতে নৈশকোচে ঢাকায় যায়। পরে তারা কল দিয়ে জানায়, অনন্যা রাতেই মারা গেছে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকার শোকের ছায়া নেমেছে। আমরা তাকে হারিয়ে খুব হতভম্ব। অনন্যার জানাজা সৈয়দপুরের নিচু কলোনি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে আমরা তাকে তার নানির কবরের পাশে দাফন করবো। তার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। সে যখন চাকরিতে যায় তখন তাকে ছাড়তে কষ্ট পেয়েছি। সেই অনন্যা এভাবে হারিয়ে গেল, সেটা কীভাবে সহ্য করবো। আমরা তাকে হারিয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেললাম। এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, আমি পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন