আনোয়ারায় চুরি করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে কিশোর গ্যাং সদস্যের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন মহিম (২২) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপ’-এর সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার শোলকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিম কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর এলাকার মো. কামালের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা মেডিকেল এলাকার পাশে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।
ভবনের বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে বাইরে লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন কিশোর ভবনের জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক কিশোরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, সদর, বোয়ালগাঁও, খিলপাড়া, মেডিকেল মোড়, কালাবিবির দীঘির মোড় ও শোলকাটা রাস্তার মাথা এলাকায় কয়েক বছর ধরে ‘সম্রাট গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাং প্রভাব বিস্তার করে আসছে। নিহত মহিম ওই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিল। এলাকাগুলোতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে মহিম একাধিকবার চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, শোলকাটা এলাকায় আনোয়ারা মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিপরীতে অবস্থিত হাসেম কমপ্লেক্সের পঞ্চম তলায় চুরি করতে গিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে নিচে পড়ে যায় মহিম। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা ও আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরদিকে মহিমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দরজা ভাঙচুর করে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি দোকানপাটেও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, মহিম রাত দেড়টার দিকে বাসায় ছিল। পরে কে বা কারা তাকে ডাকলে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ভোরে তাকে জানানো হয়, ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে মহিম মারা গেছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখি আমার ছেলের মরদেহ বাইরে পড়ে আছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে আগে কয়েকটি মামলা ছিল। তাকে মেরে ফেলে সাজিয়ে বলা হচ্ছে ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে। কিন্তু সে কোথায় পড়ে ছিল, সেটিও কেউ স্পষ্ট করে দেখাতে পারেনি। এদিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেয়ার সময় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে বাক?বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উত্তেজিত স্বজন ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জরুরি বিভাগের দরজায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হয়। এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মহিম নামে একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি ভবনে চুরি করতে গিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগেও চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন