নয়া রণকৌশলে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

নয়া রণকৌশলে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

রোমাঞ্চকর আরও একটি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। আজ মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। টাইগারদের বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের লড়াই এটি। দিবারাত্রির এই লড়াই শুরু বেলা সোয়া ২টায়। দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। গত অক্টোবরের পর ওয়ানডে খেলতে নামছে টাইগাররা। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হবে আজ। পরিসংখ্যানের পাতায় পাকিস্তানের আধিপত্য স্পষ্ট।

এ পর্যন্ত খেলা ৩৯ ওয়ানডের ৩৪টিতেই জিতেছে তারা। তবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী। নিজেদের ৫ জয়ের ৪টিই এসেছে দেশের মাটিতে। ২০১৫ সালের অবিস্মরণীয় ‘বাংলাওয়াশ’ বা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্মৃতি আজও অমলিন। এরপর অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে আর কোনো সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশর। সবশেষ ২০২৩ বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে হারে টাইগাররা।

এবার নিজেদের চেনা আঙিনা ও দর্শকদের সামনে নতুন কিছুর স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা। পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের জন্য রণকৌশল ও দল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ওয়ানডে আছে। র‌্যাঙ্কিংয়েরও একটি বিষয় আছে। তাই প্রতিটি সিরিজ ও ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। আশা করি দিন শেষে ভালো ফল আসবে।’ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই সিরিজে নতুন রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রতিভাবান ব্যাটার লিটন দাসকে পাঁচে খেলানোর পরিকল্পনা করেছে দল। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লিটন পাঁচে খেললে ইনিংস উদ্বোধনে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারকে। মিডল অর্ডারে দলের মূল চালিকাশক্তি হবেন অধিনায়ক মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তাওহিদ হৃদয়। লিটনকে পাঁচে নামানোর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে লিটন দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। মিডল ওভারে স্পিনারদের সামলাতে তার দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় দল। দ্বিতীয়ত, ৫০ ওভার উইকেটকিপিং করে ওপেন করা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ কঠিন।

তৃতীয়ত, সাকিব ও রিয়াদের অনুপস্থিতিতে নড়বড়ে মিডল অর্ডারে একজন ‘অ্যাঙ্কর’ প্রয়োজন। তাছাড়া ওপেনিংয়ে টানা ৮ ইনিংসে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে ব্যর্থ লিটন পজিশন বদলালে ছন্দে ফিরবেন বলে আশাবাদী ম্যানেজমেন্ট। ২০১৯ বিশ্বকাপে ওযেস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচে নেমে ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন লিটন। সিনিয়রদের অনুপস্থিতি নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ওয়ানডেতে আমাদের ভালো একটি ছন্দ ছিল। সিনিয়ররা দীর্ঘদিন খেলে ওই ছন্দটা ধরে রেখেছিলেন। এখন তারা খেলছেন না। তাই আজ যারা খেলবে, তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।

ওয়ানডেতে পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেয়াটা জরুরি।’ অন্যদিকে, পাকিস্তান দলও এবার বাংলাদেশে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে। বাবর আজমের মতো সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে তারুণ্য নির্ভর স্কোয়াড সাজিয়েছে তারা। আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাদের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নতুন এই দলের নেতৃত্বভার ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ্‌ আফ্রিদির কাঁধে। আজ তিন তরুণের ওয়ানডে অভিষেক হতে পারে। সাহেবজাদা ফারহান, মাআজ সাদাকাত ও শামিল হোসেনের মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রবল। তবে দল তরুণ হলেও তাদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। শাহিন আফ্রিদিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাদের লক্ষ্যের কথা।

তরুণদের ওপর আস্থা রেখে পাক অধিনায়ক বলেন, ‘এই সিরিজের জন্য কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। আমরা কেবল তরুণদের সুযোগ দিতে চাই, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সময় হলে তারা নিজেদের ভূমিকা বুঝতে পারবে এবং আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবে। আমাদের দলকে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করতে হবে, আর তরুণদের জন্য এটি নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের দারুণ সুযোগ।’ মিরপুরের উইকেট স্পিন সহায়ক হলেও পাকিস্তান তাদের সহজাত ফাস্ট বোলিং দিয়েই আক্রমণ শানাতে চায়। হারিস রউফ ও শাহিন আফ্রিদির মতো পেসাররা বড় পরীক্ষা নেবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও এখন বেশ শক্তিশালী। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানারা গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত। পাশাপাশি বোলিংয়ে স্পিনার তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেন হতে পারেন স্বাগতিকদের ট্রাম্পকার্ড। পাকিস্তানের তরুণ খেলোয়াড়দের অনেকেই বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) খেলেছেন। এখানকার মাঠ ও কন্ডিশন তাদের চেনা, যা তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে দশম স্থানে রয়েছে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শীর্ষ আটে থাকতে হবে। তাই প্রতিটি জয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে মিরপুরে আজ এক দারুণ উপভোগ্য ম্যাচের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। একদিকে মিরাজের নেতৃত্বে নতুন কৌশলে উজ্জীবিত বাংলাদেশ, অন্যদিকে শাহিন আফ্রিদির তারুণ্য নির্ভর পাকিস্তান। অতীত পরিসংখ্যান পাকিস্তানের পক্ষে কথা বললেও, মিরপুরের ২২ গজে যারা স্নায়ুচাপ ধরে রেখে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে, শেষ হাসি হাসবে তারাই। অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ বলেন, ‘দল গড়তে হলে সবাইকে পারফর্ম করতে হবে। আমি সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের ব্যাক করব।’ ২০১৫ সালের মতো আরও একটি সিরিজ জয়ের সূচনা আজই করতে পারবে কি না বাংলাদেশ, তা দেখার জন্যই মুখিয়ে আছে দেশের কোটি ভক্ত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন