মিরাজের ভাবনায় ‘বিশ্বকাপ’ নেতৃত্ব নয়

মিরাজের ভাবনায় ‘বিশ্বকাপ’ নেতৃত্ব নয়

ফন্ট সাইজ:

আজ থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ কাটানোর জন্য র‌্যাংকিংয়ে সেরা আটে থাকতে হবে টাইগারদের। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে এর কোনো বিকল্প নেই। র?্যাংকিংয়ের দশম স্থানে এখন বাংলাদেশ। চলতি বছর দলের মোট ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে। যেখানে ভালো পারফরম্যান্স করে র?্যাংকিংয়ে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। গত বিশ্বকাপের পর দল বেশি ওয়ানডে খেলেনি। মাঝে লম্বা বিরতি ছিল। প্রতিটি সিরিজ সমান গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে বর্তমান সদস্যদের দায়িত্ব নিতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মানিয়ে নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছে দল। দূরের চিন্তা না করে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চায় বাংলাদেশ। নতুন যাত্রা নিয়ে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। যেহেতু সামনে ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ এবং এটা স্টার্ট করতে হবে, আমরা বলেছি যে আমাদের এখন থেকেই স্টার্টটা হয়েছে।

আমরা অবশ্যই ওইভাবে একটা প্ল্যানিং করছি। প্রতিটি খেলোয়াড়কেই অনেক দায়িত্বশীল হতে হবে।’ মিরাজের নেতৃত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপের আগে। প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজই থাকছেন! নাকি অন্য কেউ আসবেন? এ নিয়ে ভাবনা নেই মিরাজের। তার ভাবনাতে বিশ্বকাপ আর নিজের পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য ভালো উইকেটে খেলা জরুরি। মিরাজও স্পোর্টিং উইকেটের পক্ষে। ট্রু উইকেটে খেললে ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস পান। বড় শট ও রান করার সুযোগ বাড়ে। ঘরের মাঠের সুবিধাও কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। সব দলই নিজ দেশে হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়।

ক্যারিবীয়ানরা স্পিনে দুর্বল হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগায় বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন কৌশলে খেলবে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভালো উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হতে চায় দল। তবে ম্যাচ জেতাটাও দলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব দিক বিবেচনা করে উইকেট তৈরি হবে। এমন আভাস দেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাক্সিমাম ম্যাচ যদি ট্রু উইকেটে খেলতে পারি আমাদের ভালো এক্সপেরিয়েন্স হবে। তবে আমাদের কোয়ালিফাইও করতে হবে। তাই যেসব দলের বিপক্ষে হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়া সম্ভব, আমরা অবশ্যই সেটা নেবো।’ নিজের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত নন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি দলের প্রয়োজনে খেলতে চান। দলের ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রধান কাজ। অতীতে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করেছেন তিনি। কখনো দলের হয়ে ওপেন করেছেন। আবার কখনো আট নম্বরে নেমেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সাত নম্বরে খেলতে আগ্রহী।

দীর্ঘ আট বছর তিনি লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করেছেন। সেখানে বোলারদের নিয়ে অনেক ম্যাচ জেতানোর দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এই অভিজ্ঞতা তিনি নতুনদের সঙ্গে কাজে লাগাতে চান। নিজের ভূমিকা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে কখনোই চিন্তা করিনি। আমি যদি সাত নাম্বারে ব্যাটিং করি এটা আমার কাছে মনে হয় টিমের অনেক হেল্প হবে। কারণ এখানে আমার এক্সপেরিয়েন্স আছে।’ গত কয়েক সিরিজে বাংলাদেশ দল পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি। এই ব্যর্থতা মিরাজ অকপটে স্বীকার করেছেন। টানা খেলার ক্লান্তি আর নেই। দল এখন মানসিকভাবে অনেক সতেজ। মিরাজের দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তবে এসব নিয়ে মিরাজ মোটেও ভাবছেন না। নেতৃত্ব তার কাছে বড় দায়িত্ব মাত্র। মিরাজের মূল লক্ষ্য দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। আগের দুই সিরিজে দলের ফল খুব ভালো হয়নি। শেষ সিরিজে দল দারুণ জয়ে ফিরেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি তার জন্য বড় পরীক্ষা। সামনে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড সিরিজও রয়েছে। এই ম্যাচগুলোর ফল তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

তবে নিজের চেয়ে দলের জয়কেই অনেক বড় করে দেখছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেনসি এটা একটা টিমের প্রয়োজনে একজন ক্যাপ্টেন থাকবে। যাকে দেয়া হোক না কেন তাকে সময় দিলে জিনিসটা আরও সুন্দরভাবে বিল্ড করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিকেট বোর্ড। যতদিন তার কাঁধে দায়িত্ব আছে, তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দেবেন। তার প্রথম অগ্রাধিকার কেবল বাংলাদেশ দল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন