বাবর আজমের মতো মহাতারকারা বিশ্রামে। তাদের জায়গায় আজ মিরপুরের ২২ গজে দেখা যাবে একঝাঁক নতুন মুখ। আসন্ন বিশ্বকাপের মহড়া দিতেই তারুণ্য নির্ভর এক দল নিয়ে ঢাকায় পা রাখে পাকিস্তান। সব ঠিক থাকলে আজ তিন তরুণের মাথায় উঠতে পারে ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ। সাহেবজাদা ফারহান, মাআজ সাদাকাত ও শামিল হোসেন- এই তিনজনকে ঘিরে এখন পাকিস্তানের সব রোমাঞ্চ। মাআজ নামবেন ইনিংস উদ্বোধনে, আর শামিলের জায়গা ওয়ান ডাউনে। পাকিস্তান শাহিনস ও লিস্ট এ ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স বেশ নজরকাড়া। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সবসময় দুর্দান্ত খেলে। শেষ ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা।
পাকিস্তানও ফর্মে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে, আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। স্পিন সহায়ক মিরপুরেও নিজেদের চিরচেনা পেস বোলিংয়ে বাজি ধরতে চায় সফরকারীরা। তরুণদের এই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে দারুণ আশাবাদী অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই সিরিজের জন্য কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। আমরা কেবল তরুণদের সুযোগ দিতে চাই, কারণ তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’ মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। তবে পাকিস্তানের রণকৌশল কিছুটা ভিন্ন।
একাদশে স্পিন নাকি পেস, কে বেশি রাজত্ব করবে- তা নিয়ে এখনো চলছে জল্পনা। উইকেট পর্যবেক্ষণের পর প্রাথমিক ধারণা মিলেছে যে, পেসাররাও এখানে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তাই চূড়ান্ত একাদশ সাজাতে অনুশীলনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশের স্পিন ঘূর্ণির কথা মাথায় রেখেই নিজেদের পেস আক্রমণ শানিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান। স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পেলেও, দিনশেষে ফাস্ট বোলাররাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবেন বলে বিশ্বাস তাদের। দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি বেশ আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান দল ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত।
আমরা অবশ্যই ফাস্ট বোলিং নিয়ে মাঠে নামবো। তবে এক ম্যাচে তো আর ১৫ জন খেলতে পারে না, তাই দলের ও পিচের চাহিদা অনুযায়ী সেরা ১১ জন খেলবে।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডে মিশনে নামতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। ফরম্যাটের এই দ্রুত বদল নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় সফরকারীরা। কারণ, স্কোয়াডের তরুণরা সম্প্রতি পাকিস্তান শাহিনসের হয়ে লিস্ট এ ম্যাচ খেলে বেড়িয়েছেন। ফলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মানিয়ে নেয়া তাদের জন্য কঠিন কিছু নয়। প্রতিপক্ষের স্পিনার বা বোলারদের সামলাতেও মানসিকভাবে প্রস্তুত পাক ব্যাটাররা। এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) খেলার অভিজ্ঞতা। এখানকার মাঠ, পরিবেশ ও কন্ডিশন এই তরুণদের কাছে বেশ চেনা। অচেনা পরিবেশে খেই হারানোর ভয় তাই তাদের নেই।
