বিসিবি’র পুনঃনির্বাচনের দাবি জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের

ফন্ট সাইজ:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আবারো তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনদিন আগে এ নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি তোলেন একদল ক্লাব সংগঠক। নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা চান। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকেরা।

গতকাল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ তুলে বর্তমান পর্ষদ ভেঙে অবিলম্বে নতুন ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানান। এ আবেদনে স্বাক্ষর করেন ক্যাটাগরি ৩-এর দুজন কাউন্সিলর। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের কাছে দু’ট পৃথক আবেদনপত্র জমা দেন তারা। বিসিবি’র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ১৬ দিন পর ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) এ কাউন্সিলর পরিবর্তন করে বিসিবি’র গঠণতন্ত্রের ১২.৭ ধারা লঙ্ঘন করা হয়। বিনা বাধায় সভাপতি পদে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নির্বাচিত করতে এবং নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে পরিচালক পদে নির্বাচিত করতে এমন অপকৌশলের আশ্রয় নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-লিখিত অভিযোগে এমন দাবি করেন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকেরা।

অভিযোগপত্র জমা দিয়ে বিসিবি’র সাবেক পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘চারটি বিশেষ কারণ ছাড়া ৪ বছরের মধ্যে কাউন্সিলর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। অথচ এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে। এনএসসি কোটায় ফারুক ভাইকে মনোনয়ন করে সভাপতি করা, পরবর্তীতে ফারুক ভাইকে বাদ দিয়ে সেখানে বুলবুল ভাইকে এনএসসি কোটা থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন দিয়ে সভাপতি করা, এটা বিসিবি এবং এনএসসি’র গঠণতন্ত্র পরিপন্থি।’

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর যথাসময়ের মধ্যে জেলা ও বিভাগ থেকে যেসব কাউন্সিলরের নাম যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বিসিবিতে জমা পড়েছে, ১৬ দিন পর সেই তালিকা থেকে ৫৪ জনকে বাদ দিয়ে তাদের স্থলে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহের অ্যাডহক কমিটি থেকে নাম পাঠানো হয়। আবার অ্যাডহক কমিটিতে রদবদল এনে ঢাকা বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি থেকে সাথিরা জাকির জেসিকে বাদ দিয়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে ঢুকিয়ে নির্বাচনী তফসিল লঙ্ঘন করা হয় বলে জানান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এসব কারণেই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তুলছি আমরা। তদন্ত কমিটি গঠিত হলে বিসিবি’র নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা ওঠে আসবে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য, ক্রীড়া উপদেষ্টার পিএস, এপিএসকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে আসুক, এই দাবিও করছি।’ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্যাডে প্রেরিত কাউন্সিলরদের নাম বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নে যুব ও ক্রীড়া সচিবকে দেয়া বিসিবি সভাপতির চিঠির কার্যকারিতা বাতিলে ৪ ক্রীড়া সংগঠকের রিট মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বুলবুলের ওই চিঠির কার্যকারিতার উপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কিছুক্ষণ পর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত। সেই স্থগিতাদেশ পেয়ে বিসিবি’র নির্বাচন হয়। আদালতে মামলাটি এখন বিচারাধীন। এই অবস্থায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কেন কামনা করেছেন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকরা? এর উত্তরে রিটকারী এডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘এদেশের ক্রীড়াঙ্গন পরিচালিত হয় এনএসসি’র নির্দেশনায়। যেকোনো প্রয়োজনে এনএসসি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন