পূর্ব এশিয়ার সম্ভাবনাময় দেশ কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিতে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করছেন এবং বাংলাদেশি কর্মীরাও সেখানে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরো (ইগঊঞ) সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কম্বোডিয়ার নিয়োগকর্তা কোম্পানি ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের পর ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করা হয়। দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স, নিয়োগপত্র এবং চুক্তির শর্তসমূহ বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে সন্তোষজনক মনে হলে তবেই সত্যায়ন প্রদান করে। পরবর্তীতে বিএমইটি কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে ছাড়পত্র প্রদান করে থাকে।
তবে সম্প্রতি একটি অসাধু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে কম্বোডিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের চীনা স্ক্যাম চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়- এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে। বাস্তবে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উচ্চশিক্ষিত ও আইটি-দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কম্বোডিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া অধিকাংশ কর্মীই।
বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাংকক দীর্ঘদিন ধরে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়ে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থাও করেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, একটি অসাধু চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সম্ভাবনাময় এই শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিটেন্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে- যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারকে নিরাপদ ও সুসংহত করতে সম্মিলিতভাবে।
কম্বোডিয়ার শ্রমবাজার ও দূতাবাসের কর্মকর্তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার
স্টাফ রিপোর্টার
দেশ বিদেশ
৩ মাস আগে
১০ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৯ঃ২৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
