সিলেটের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট চলছে। দিনে মোট চাহিদা ১০ লাখ লিটার। ডিপো দিচ্ছে এক লাখ লিটার। ঘাটতি নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে পাম্প মালিক ও শ্রমিকরা। এতে শঙ্কা বেড়েছে। গত সোমবার চৌকিদেখির পেট্রোল পাম্পে মিঠু গোয়ালা নামের এক পাম্প শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। এর আগেই নগরের কয়েকটি পাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত সিলেটে পেট্রোল পাম্প মালিক এসোসিয়েশন ও শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেছে। ধর্মঘটকালীন সময়ে অনেকেই তেলের জন্য পাম্পে গেলেও তেল পাননি। এতে সড়কেও যানবাহন চলাচল কমে আসে। এদিকে গতকাল বেলা আড়াইটায় সিলেটে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের নেতৃবৃন্দ জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান জানান, গত ৩ দিন ধরে সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে হামলা ও ভাঙচুর হচ্ছে। জ্বালানি তেল না পেয়ে জনগণ এ হামলা করছে। এতে করে সিলেটের পাম্প মালিক ও শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন। এজন্য সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বেলা দুইটা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তেল সংকটের কারণে সিলেটে একেক করে পাম্প মালিকরা পাম্প বন্ধ করে দিচ্ছেন। ঝামেলা এড়াতে কেউ কেউ বন্ধ রাখছেন। কেন বন্ধ রাখার প্রেক্ষাপট তৈরি হলো এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন- সিলেটে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ১০ লাখ লিটার। সেখানে ডিপো থেকে দেয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ এক লাখ লিটার। কম পরিমাণ জ্বালানি তেল দেয়ায় সব পাম্পেই জ্বালানি সংকট চলছে। তিনি বলেন, যে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে এসে পরিবহন ব্যয় উঠে না। এতে করে পাম্প মালিকরা লোকসানে রয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যদি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা না হয় তাহলে তারা তেল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে পারেন।
উত্তরা পাম্প পরিদর্শন: সিলেট নগরীর চৌকিদেখিস্থ পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের অনুরোধ করায় পাম্পকর্মী মিঠু গোয়ালাকে উচ্ছৃঙ্খল তরুণদের মারধর ও গুরুতর আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুজ্জামান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত ধর বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আফছার ফাহিম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আক্রান্ত পাম্পের ক্যাশিয়ার রঞ্জন কান্তি চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন ও ঘটনার বিস্তারিত শুনেন। পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে পাম্পের কর্মীরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের অনুরোধ করা কি অপরাধ? তুচ্ছ ঘটনায় একজন কর্মীকে এভাবে মারধর ও রক্তাক্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা আরও বলেন, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি মঙ্গলবারের আল্টিমেটামের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সিলেটের পাম্প মালিকদের কঠোর হুঁশিয়ারি
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
১১ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
