ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবিদা-আঞ্জুরা

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবিদা-আঞ্জুরা

ফন্ট সাইজ:

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে মহাখালী টিএনটি খেলার মাঠে ঢুকতেই চোখে পড়লো- কয়েক হাজার নারীর ভিড়। কয়েক স্তরের বাঁশের বেড়ার ওপারে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন মঞ্চের দিকে। কাঙ্ক্ষিত প্রধান অতিথি কখন আসবেন- সেই অপেক্ষায় তারা। বাঁশের বেড়া ডিঙ্গিয়ে কাছে যেতেই কথা বলতে এগিয়ে আসেন আঞ্জু বেগম নামে এক নারী। বয়স চল্লিশের কোটায়। থাকেন কড়াইল বস্তিতে। চারজনের সংসার। স্বামী গ্লাস ফ্যাক্টরির কারখানায় কাজ করেন। বড় ছেলে ক্লাস এইটে পড়ে, ছোট ছেলে ক্লাস সেভেনে পড়ে। আঞ্জু বেগম জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারি দুজন লোক কড়াইল বস্তির বাসায় যান। এসময় তার কাছ থেকে সব তথ্য নেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি ছবি নেন। যাচাই বাছাই শেষে তাকে জানানো হয়, ১০ তারিখ ফ্যামিলি কার্ড নেয়ার জন্য টিএনটি মাঠে আসার জন্য। তিনি আরও জানান, স্বামীর উপার্জনের টাকায় চারজনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছেন না। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা দিয়ে দুই ছেলেকে পড়ার জন্য গাইড বই কিনে দেবেন। বাকি টাকা সংসারে খরচ করবেন। কথা বলতে বলতেই ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার টাকার মেসেজ চলে আসে তার মোবাইলে। আঞ্জু বেগমের চোখে মুখে তখন খুশির ঝিলিক। চওড়া হাসি দিয়ে বলেন- আমার মেসেজ চলে আসছে। খুশিতে তখন চোখ গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। শুকরিয়া আদায় করেন মহান আল্লাহর দরবারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেন। আঞ্জু বেগমের সঙ্গে কথা শেষ হতেই মোবাইল নিয়ে এগিয়ে আসেন আবিদা বেগম। হাতের বাটন ফোনটি তুলে দিয়ে বলেন- ভাই দেখেন তো আমার মেসেজ আসছে কিনা। তখনো তার মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার টাকার মেসেজ আসেনি। ত্রিশোর্ধ্ব ওই নারী জানান, তার পাঁচজনের সংসার। থাকেন কড়াইল বস্তিতে। স্বামী রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে দুজন পড়াশোনা করে। এখন সংসারে টানাপড়েন। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছেন না। এখন ফ্যামিলি কার্ডের টাকাটা পেলে সন্তানদের পড়াশোনার খরচে যোগান দিতে পারবেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিএনটি মাঠের অনুষ্ঠানে ঢুকেই ছুটে যান এসব নারীর কাছে। বাঁশের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। বেলা সাড়ে ১১টায় পারভীন বেগমের হাতে ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মঞ্চে উপস্থিত থাকা ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে ল্যাপটপের বাটন টিপে দেশের ১৪টি জেলায় একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধানের বাটন প্রেসের সঙ্গে সঙ্গে একযোগে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীর মোবাইলের বিকাশ একাউন্টে পৌঁছে যায় ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা। টাকার মেসেজ পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাশেদা বেগম প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আমি মোবাইলে মেসেজ পেয়ে গেছি। ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা চলে এসেছে। আমি অনেক আনন্দিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই টাকা দিয়ে এখন আমি আমার স্বামীকে সাহায্য করতে পারবো।
টিএনটি মাঠে উপস্থিত আরেক নারী সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে আবেগে ঢুকরে কেঁদে উঠেন। কান্নাজড়িত তিনি বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে আজ ২৪ বছর। আমার হাতে ১০ টাকা ক্যাশ পাইনি। আজ ২৪ বছর পর আমার হাতে ২৫০০ টাকা পাইয়া আনন্দে কান্না আইসে। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে আমার দেখাশোনা করে না। এসময় বিশোর্ধ্ব আরেক নারী ক্যামেরার সামনে এসে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আমি ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এক্সিডেন্ট করার কারণে কোনো ইনকাম করতে পারি না। এখন এই টাকাটা পেলে আমার অনেক উপকার হবে। এসময় শিশু সন্তান কোলে নিয়ে এসে আরেক নারী বলেন, প্রতি মাসে ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা আমাদের সংসারে অনেক উপকারে আসবে। কারণ আমরা কড়াইল বস্তিতে অনেক অসহায় গরিব মানুষ আছে। আরেক নারী বলেন, আমার স্বামী নাই সন্তান নাই। আমি অসুস্থ হওয়ার কারণে ইনকাম করতে পারি না। আমার কাছে এই ২৫০০ টাকাই কোটি কোটির মূল্য।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন