মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল অঞ্চল হিসেবে ইউরোজোন এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখায়। এর প্রভাব সরাসরি আর্থিক বাজারেও পড়ে। ইউরোপের শেয়ারবাজারে চাপ সৃষ্টি হয় এবং একই সঙ্গে ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে শুরু করে। তেলের দাম বাড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করে।
বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালীর সরবরাহে ব্যাঘাত। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন হয়, যা সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘর্ষ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে আঞ্চলিক অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয় আলোচনা করছে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ সাময়িকভাবে বাজারকে স্বস্তি দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে।
তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়।
ইউরোপীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে চাপ আরও বেশি, কারণ অধিকাংশ দেশ নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনের তুলনায় আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইউরোপীয় শিল্পখাত ও ভোক্তা বাজার দ্রুত অনুভব করে।
বাংলাদেশের মতো তেলের ওপর আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য, বিদ্যুৎ, সার ও পরিবহন খাতে পড়ে, এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয় কি না, তার ওপর আগামী মাসগুলোতে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও বাজার অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
