সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান নিয়ে এক বিতর্কে পাকিস্তান ও ভারতের তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে। ইসলামাবাদ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গায়, আর নয়াদিল্লি সীমান্তপারের বিমান হামলার নিন্দা জানায়। এই বাক্যবিনিময় হয় নাসির আহমদ ফাইকের বক্তব্যের পর। তিনি জাতিসংঘে আফগানিস্তানের স্থায়ী মিশনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আফগানিস্তানের কার্যত ক্ষমতাসীন তালেবান কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং ফাইককেও স্বীকৃতি দেয় না।
এ খবর দিয়ে অনলাইন ডন বলছে, নিজের বক্তব্যে ফাইক পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তবে তিনি আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি। এর জবাবে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, আফগানিস্তান ও ভারতের বক্তব্য শোনার পর তিনি আবার কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের তথাকথিত প্রতিনিধি, যিনি আসলে নিজেকে ছাড়া আর কারও প্রতিনিধিত্ব করেন না, তিনি যেন এই ফোরামকে তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা এগিয়ে নিতে অপব্যবহার না করেন।
ফাইককে ‘নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, তিনি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং পরিস্থিতির কিছু দিক নিয়ে বেছে বেছে মন্তব্য করার পথ বেছে নিয়েছেন, বিশেষ করে পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানি দূত বলেন, সুতরাং তার বক্তব্যের মূল্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।
আহমদ বলেন, ফাইকের আফগানিস্তান থেকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বলার কিছুই ছিল না, অথচ এর ফলে পাকিস্তানে বেসামরিক মানুষ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং অবকাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরপর ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রদূত আহমদ বলেন, পাকিস্তানের প্রতি ভারতের বৈরিতা এবং আফগান নীতির একমাত্র লক্ষ্যই যখন পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করা, যার মধ্যে আফগান ভূখণ্ড থেকে সক্রিয়ভাবে টিটিপি ও বিএলএ’র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া অন্তর্ভুক্ত, তখন ভারতীয় প্রতিনিধির মন্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, ভারতের প্রতিনিধি আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ কথা বলেছেন, বেসামরিক হতাহত ও সীমান্তসংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে আসা সেই সন্ত্রাসী হুমকি নিয়ে একটি শব্দও বলেননি, যা পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেছে এবং যা পরিষদের অনেক সদস্য তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, কিন্তু এর পেছনে একটি কারণ আছে। আর তা হলো, এসবের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা। এর আগে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, তার দেশ সীমান্তপারের সহিংসতায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এমন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ভারত আরও বাণিজ্য ও ট্রানজিট সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বলে, ভূমিবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই দুর্বলতাগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
