যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কাছে ইরান যেন এক যম আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। তারা যে ইরান কল্পনা করেছিল, দেশটি তার চেয়ে শক্ত, কঠিন, ঐক্যবদ্ধ। রক্তচক্ষু তো নয়ই, বরং বি২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে হামলা কোনো কিছুই ভয় ধরাতে পারছে না ইরানি শাসকদের। বিশ্বের এক নম্বর শক্তিধর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মুখের ওপর ‘পারমাণবিক বোমার মতো’ জবাব ছুড়ে দিচ্ছে।
আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে- যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা যুক্তরাষ্ট্র নয়, আমরাই ঠিক করব। ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান থেকে শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জের কথা বলে সেখানে ভয়াবহ হামলা শুরু করে ২৮শে ফেব্রুয়ারি। সেদিন থেকে সেখানে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বেসামরিক স্থাপনা কিছুই বাদ যাচ্ছে না। তারা হত্যা করেছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের। অনেকেই ভেবেছিলেন, এর ফলে ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল হবে। দেশটির ভিতরে যে বিদ্রোহ আছে, তা জাগ্রত হবে। তাদেরকে আবার ট্রাম্প উস্কানি দেন। তিনি হামলা চালিয়ে বলেন- আমরা যেখানে শেষ করবো, সেখান থেকে শুরু করতে হবে তোমাদের। তোমাদের সরকারের দায়িত্ব নিতে হবে। একটি স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার গ্রাহ্য করে কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তো ট্রাম্পের এই যে রেজিম চেঞ্জের আশা, তা দৃশ্যত গুঁড়েবালি। কারণ, তাকে তুরুপের তাস চেলে দিয়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নির্বাচিত করেছে। সব বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা সহ সাধারণ জনগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরান আরও কঠিন ও ঐক্যবদ্ধ এটা প্রমাণ হয়েছে। তাদের বাহিনীগুলোতে কোনো ফাটল ধরেনি। অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ মোজতবা খামেনিকে নেতা নির্বাচিত করার বিরোধিতা করে পথে নামেন। কিন্তু কোনো কিছুকে তোয়াক্কা করছে না ইরান। তারা হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেই। এরই মধ্যে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। ‘অপারেশন প্রমিজ ৪’-এর ৩৩তম ধাপ শুরু করেছে। ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে ইসরাইল ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে তারা শুধু তাদের সবচেয়ে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। এগুলোর ওজন এক টন বা তারও বেশি।
ইরাকের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন লজিস্টিকস সহায়তা ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতে ড্রোন হামলা করা হয়েছে। হামলা হয়েছে বাহরাইনে। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ড্রোন হামলা হয়েছে সৌদি আরবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী দেশের পূর্বাঞ্চলের দিকে আসা আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এরও তিন ঘণ্টা আগে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আল-খারজ গভর্নরেটের কাছে আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করে।
ওদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলার দাবি করেছে ইরানের প্রতি সংহতি জানানো যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা বলেছে, খিয়াম শহরের উপকণ্ঠে ইসরাইলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং তিনটি মেরকাভা ট্যাঙ্কে আঘাত হানা হয়। তাদের দাবি, তিনটি যানবাহনেই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এর আগে তারা বলে, তারা মেরকাবা শহরে ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে দুই দফা রকেট হামলা চালিয়েছে এবং আইতারুন গ্রামের খানুক এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর গোলাবর্ষণ করেছে। এছাড়াও সীমান্তবর্তী শহর মারুন আল-রাসের পূর্ব উপকণ্ঠের কাহিল হাইটসে থাকা ইসরাইলি সেনাদের ওপরও রকেট হামলার দাবি করেছে।
ওদিকে ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় খোমেইন শহরে একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, হামলার শিকার স্থানটি ড. হাফেজ খোমেইনি স্কুল এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
