মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর সৌদি প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত বাচ্চু উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে। বাচ্চু দেশে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আথিক সচ্ছলতার জন্য আট বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে রিয়াদ শহরে আল তোয়িক বলোদিয়া কোম্পানিতে কাজ করতেন। তিন বছর পূর্বে একবার দেশে এসেছিলেন। সামনের কোরবানির ঈদে দেশে আসার কথা ছিল তার। সবশেষ গত রোববার রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে স্ত্রী জোসনার সঙ্গে কথা হয়। জোসনা জানান, অন্য সময় তিনি ধীর, শান্ত কণ্ঠে কথা বলতেন। কিন্তু গতকাল কথা বলার সময় তাকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। খুব দ্রুতগতিতে ইফতার খাওয়া-দাওয়া এবং ছেলেমেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। জোসনা জানান, তিনি তো আগে কখনো এভাবে কথা বলেননি। আজ কেন উদ্বিগ্ন মনে হলো জানার জন্য মুঠোফোনে তার সঙ্গে আবারো কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার মুঠোফোন বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এতে বাড়িতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাচ্চুর সহকর্মী বিল্লাল মিয়া তার আরেক সহকর্মী বর্তমানে দেশে থাকা কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনা জানান।
নিহতের স্ত্রী সরকারের কাছে স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে আনার অনুরোধ জানিয়ে বলেন তাদের তিন সন্তান। দুই মেয়ে এক ছেলে। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী। তার স্বামী ধার-দেনা করে সৌদি গিয়েছিল। এখনো সেই ঋণ পরিশোধ হয়নি। এতিম সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক তার পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া, ঘর সংস্কারের জন্য দ্রুতই দুই বান টিন দেয়া হবে। মরদেহ দেশে আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া সরকারিভাবে নেয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।
