রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ ব্যবসায়ীর সর্বস্ব ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ২ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ৪জন আহত হয়েছেন। আগুনের কারণে রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগুনে বহরপুর বাজারের সজিরুদ্দীনের পাটের ঘর, আব্দুস সালামের পাটের ঘর, মহিদুল ইসলামের সাইকেল পার্টস, মিলন শিকদারের পাটের ঘর, মাছেম মণ্ডলের ভুসিমালের ঘর, তাপস সাহার ভুসিমালের, বাবলু শিকদারের কাপড়ের দোকান, জালালের কাপড়ের দোকান, সুজিতের স্বর্ণের দোকান, আলামিনের লেপের দোকান, আজিজুলের গ্যাসের দোকান, আকমলের দর্জি দোকান, হাকিমের সারের দোকান, প্রভাব ঘোষের মুদি দোকান, কিশোরীর মুদি দোকান, মোরশেদের অটো পার্টসের দোকান, ইসলামের চাউলের দোকান, তৈয়ব আলীর পাটের ঘর, কৃষ্ণের পাটের ঘর, মোহাম্মদ আলীর সাইকেল পার্টস, কৃষ্ণ সাহার কাপড়ের দোকান, তৈয়ব আলীর গুদাম। সোমবার দুপুর সাড়ে ১১ টায় হঠাৎ করেই বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারের ঘরগুলোতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর বাজারে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা নিমিষেই বাজার জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা নেমে আসে। পরে তা দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ও জীবিকার অবলম্বন আগুনে ভস্মীভূত হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে রাজবাড়ী ও বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, আগুন লাগার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানগুলো পুড়ে যায়। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কীভাবে আগুন লাগলো কেউ বলতে পারছেন না।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী ইউনিটের সদস্যরা প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সঠিক সময়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বাজারটি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ৩ জন ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ এখনো সম্ভব হয়নি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বহরপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম পুলিশ কাজ করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষতির পরিমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রব তালুকদারের নেতৃত্বে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বালিয়াকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
১০ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
