কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না লোভাছড়া কোয়ারির পাথর লুট। কেউ কোয়ারি খুঁড়ে লুটে নিচ্ছে পাথর, আবার কেউ লিজে থাকা পাথর চুরি করে বিক্রি করছে। প্রশাসন নির্বিকার। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের দোহাই দিয়ে তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পাথর অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সরকার একদিকে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে চিরতরে ধ্বংস হচ্ছে জনপদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য। শনিবার সরজমিনে দেখা যায় লোভাছড়া কোয়ারি ২৬ নং পিলারে এলাকায় মাটি খুঁড়ে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়গুলো ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোর কারণে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে। লোভাছড়ায় নদীতে শত শত নৌকায় পাথর তুলে ট্রাক্টর করে দিন-দুপুরে পাথর সরিয়ে নিয়ে ক্রাশার মিলে দেখা গেছে। শত শত শ্রমিক ও যন্ত্র ব্যবহার চললেও তা থামানোর কেউ নেই। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শক্তিশালী সিন্ডিকেট লুটপাট নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকির মুখে পড়তে হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় লুটপাট চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। উল্টো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ‘লুটপাট চক্রকে’ ছত্রছায়া দিচ্ছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। ফলে দায়সারা কিছু অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। লোভাছড়ায় কারা লুটপাটকারী- এ প্রশ্নের উত্তর জানেন অনেকেই। কিন্তু মুখে বলেন না। কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল মেম্বার, শায়েক মেম্বার, রঞ্জন, আলম সহ কয়েকজনের নেতৃত্বে এই পাথর লুট করা হচ্ছে। পাথর লুটের ঘটনায় তমিজ, ময়নুল মেম্বার সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। লোভার মূল হোতা তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে এলাকায় বেড়াচ্ছে। এদিকে লোভাছড়া লুটে ঘটনায় কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পুলিশ সব সময় পাহারা দিতে পারে না। যখন পুলিশ ওই এলাকায় থাকে না তখন লুটপাট করা হয়। তবে যারাই লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
লোভাছড়া খুবলে খাচ্ছে চিহ্নিত পাথরখেকোরা
মুফিজুর রহমান, কানাইঘাট (সিলেট) থেকে
১০ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
