সৌদিতে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদিতে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

ফন্ট সাইজ:

সৌদি আরবে একটি মিসাইল হামলায় বাচ্চু মিয়া (৩৫) নামে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার একজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। গত রোববার ইফতারের আগমুহূর্তে দেশটির আল খারিজ শহরের একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল হামলায় এই নিহতের ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বাচ্চু মিয়া ছিলেন দ্বিতীয়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় আট বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানের জনক, তাদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদিআরবের আল খারিজ শহরের ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন বাচ্চু মিয়া। রোববার ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ সেখানে মিসাইল বিস্ফোরণ ঘটলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাচ্চু মিয়ার অকাল মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মরহুমের চাচাতো ভাই রতন মিয়া জানান, বাচ্চু মিয়া বিদেশ গিয়েছিল পরিবারের হাল ধরার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটা ঘরও করতে পারে নাই। তার তিন সন্তান, এক ছেলে দুই মেয়ে, একজন সন্তান প্রতিবন্ধী, পরিবার বেহাল অবস্থায় আছে। আমরা চাই সরকার যেনো পরিবারের পাশে থাকে এবং নিহত বাচ্চুর মিয়ার লাশটা যাতে দেশে আনার দ্রুত ব্যবস্থা করেন।
নিহতের স্ত্রী জোৎস্না আক্তার জানান, বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরানোর জন্য আট বছর আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সামনের কুরবানির ঈদে তিনি দেশে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ রোববার বিকালে ঘটনার কয়েক মিনিট পূর্বে মোবাইল ফোনে স্ত্রী জোৎস্না আক্তারের সঙ্গে বাচ্চু মিয়া কথা বলেন। কথা বলার সময় তাকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। তাড়াতাড়ি করে ইফতার এবং ছেলেমেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। তিনি আগে কখনো এভাবে কথা বলেননি। আজ কেন উদ্বিগ্ন মনে হলো জানার জন্য জ্যোৎস্না আক্তার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে আবারো কথা বলার চেষ্টা করেন; কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার মোবাইল ফোন বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বাড়িতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৌদি আরব থেকে সহকর্মী বিল্লাল মিয়া তার আরেক সহকর্মী কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার কাছে বাচ্চু মিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনা জানান।
এদিকে সুজনের মাধ্যমে সংবাদটি পাওয়ার পর থেকে পরিবারটিতে মাতম চলছে। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জালালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোবারক হোসেন বলেন, তিনি অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ ছিলেন, ২০১০ সাল থেকে তিনি ইসলামী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
জালালপুর ইউনিয়নের সমাজকর্মী এইচ এন বাশার আহমেদ বলেন, সরকারকে আহ্বান জানাই রাষ্ট্র যাতে পরিবারের দায়িত্ব নেন এবং সন্তান গুলোর লেখাপড়ার দায়িত্ব বহন করে।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার জানান, বাচ্চু মিয়া সৌদি আরব শাখা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন এবং দেশে থাকাকালেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
খবর পেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ মারলিজ। তিনি পরিবারের বর্তমান দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিবারটির আর্থসামাজিক অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। সরকারিভাবে যে ধরনের সহযোগিতা আসবে, তা যেন এই পরিবারটি পায় তা নিশ্চিত করা হবে। ইউএনও বলেন, বাচ্চু মিয়ার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন