‘নতুন’ শুরুতে আশাবাদী বাংলাদেশ

‘নতুন’ শুরুতে আশাবাদী বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

দেশের ক্রিকেটে স্থবিরতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক আমেজ ফিরছে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। রাজনৈতিক কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার বড় উপলক্ষ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ভক্তদের দারুণ প্রত্যাশা রয়েছে। ২০১৫-তে সবশেষ বাংলাদেশ সফরে এসে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। সেই সুখস্মৃতি এবারও দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে স্বাগতিকদের। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের অধীনে মাঠে নামবে দল। পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল)-এর কারণে সফরটি দুই ভাগে বিভক্ত হচ্ছে। মে মাসে হবে টেস্ট। আপাতত লক্ষ্য কেবলই ওয়ানডে। গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বেশ আশাবাদী। গতকাল মিরপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের সার্বিক লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য সময়টা খুব কষ্টের ছিল। তবে আমরা এখন সেই অধ্যায় পার হচ্ছি। এবারের উইকেটগুলো অনেক বেশি ভালো মনে হচ্ছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নতি করা।’

সিরিজ শুরুর আগে দলের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন সিমন্স। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দল ভালো করলেও মাঝের ওভারগুলো নিয়ে তার আক্ষেপ রয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে মাঝের ওভারগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘মাঝের ওভারে আমরা প্রত্যাশামতো ভালো করতে পারিনি। তাই এই নির্দিষ্ট জায়গায় আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এই ওভারগুলোতে কত রান, কতগুলো সিঙ্গেল বা বাউন্ডারি পাচ্ছি, সেটি ওয়ানডে ক্রিকেটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও মাঝের ওভারে আমাদের আরও বেশি উইকেট তুলে নিতে হবে। এই দুটি জায়গাতেই আমরা মূলত ফোকাস করব।’ মিডল অর্ডারের এই দুর্বলতা কাটাতেই আফিফ হোসেনকে কাজে লাগাতে চান সিমন্স।

ওপেনিংয়ের বদলে আফিফকে নিচে খেলানোর সিদ্ধান্তে চমক থাকলেও এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। কোচ বলেন, ‘টানা ৫০ ওভার কিপিং করে নেমে ওপেন করা খুব কঠিন। তাছাড়া আফিফ স্পিনটা বেশ ভালো খেলে। মিডল অর্ডার আমাদের অন্যতম দুর্বল জায়গা। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সেখানে দলের কাজে লাগবে।’ আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে পেসারদের ওপর বাড়তি জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। মিরপুরের স্পিন-বান্ধব উইকেটেও তাই পেস আক্রমণের ভিন্ন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন সিমন্স। দলে তিনজন ফাস্ট বোলার খেলানোর স্পষ্ট আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ হবে। সেখানে খেলার প্রস্তুতি আমাদের এখন থেকেই নিতে হবে। তাই আমরা এখন থেকে নিয়মিত তিনজন পেসার খেলানোর চেষ্টা করবো। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়তো কখনো তিনজন স্পিনারও লাগতে পারে।

তবে এক স্পিনার দিয়ে মাত্র দুই ওভার বোলিং করানোর সেই দিনগুলোতে আমরা আর ফিরে যাবো না।’ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা বা বাছাইপর্ব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না কোচ। দলের সামগ্রিক ও ধারাবাহিক উন্নতির দিকেই বেশি নজর তার। সিমন্স বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আট দলের মধ্যে থেকে বিশ্বকাপ খেলা নয়। আমরা পয়েন্ট টেবিলে আরও ওপরে উঠতে চাই। তার মানে হলো আমাদের আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ সিরিজের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই বাড়তি সতর্ক বাংলাদেশ দল। আনক্যাপড বা নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া পাকিস্তান দলকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না কোচ।

যেকোনো পজিশনে প্রস্তুত লিটন
লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞরা দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। লিটন প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘লিটনকে আমাদের কিছুই বোঝাতে বা রাজি করাতে হয়নি। দলের যা প্রয়োজন, সে তা করতে খুশি মনেই প্রস্তুত। সে সবসময় দলের জন্য অবদান রাখতে চায়।’ অধিনায়কত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেই দৃঢ় বিশ্বাস কোচের। সবশেষ পাকিস্তান সিরিজের কথা স্মরণ করে সিমন্স বলেন, ‘পাকিস্তান এবার নিশ্চিতভাবেই খুব শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। তারা এখানে এসে আবারও ৩-০ ব্যবধানে হারতে চাইবে না। মিরপুরের উইকেট এবার অনেক ভালো হবে বলে আশা করছি। আমরাও এই সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। এই সিরিজটি মূলত আমাদের জন্য ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দারুণ এক শুরু হতে যাচ্ছে।’

73640

৩ মাস আগে

PAKISTAN JETA CHAICHILO SETAI HOYECHE . 1971 SALER KICHU JAMATI SHOYTAN DER DIE DESHER AGROGOTI TA KE DHANGSHO KORE DIECHE .

মন্তব্য করুন