পুরো ম্যাচেই বল পজিশনে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান যেখানে বল পায়ে রেখেছে ৪৪ শতাংশ, সেখানে মারিয়া-মনিকাদের দখলে ছিল ৫৬ শতাংশ। মাঝমাঠও দখলে রেখেছিল বাংলাদেশ। গোলপোস্টে উজবেকিস্তানের প্রায় সমান শট নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। খেলাও একপেশে ছিল না। তবে ম্যাচের এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে রেজাল্টের মিল হলো না। পার্থের র্যাকটেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপে নিজেদের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হার দেখলো বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক করেন দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা।
বাংলাদেশের হাই-লাইন ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে এই উজবেক ফরোয়ার্ড কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই গোল তিনটি করেন। চতুর্থ গোলটি করেন নিলুফার খুদরাতোভা। তিন ম্যাচে ১১ গোল হজমের মধ্যদিয়ে এশিয়ান কাপের মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুই দল পাবে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট। সেরা দুই তৃতীয় দলের একটি হওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের। চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হারের পর লড়াইয়ে টিকে থাকতে দু’দলের চোখ ছিলো জয়ে। তাইতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ ধাপ এগিয়ে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান পিটার বাটলার। প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। পার্থের সবুজ গালিচায় শুরু থেকে মাঝমাঠ দখলে রেখে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও হাই-লাইন ডিফেন্সের কারণে ম্যাচের দশম মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। কাউন্টার অ্যাটাকে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা সঠিক মার্কিং করতে না পারায় দুর্দান্ত শটে গোলটি করেন খাবিবুল্লায়েভা। তবে পিছিয়ে পড়লেও বাটলারের শিষ্যরা দমে যাননি। ব্যবধান বেশি থাকলেও প্রথমার্ধে বাংলাদেশ সমানে সমান লড়েছে। কাউন্টার অ্যাটাকে ৩০ মিনিটে ঋতুপর্ণা জোরালো শট করেন।
উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা ফ্লাইটে খানিকটা পরাস্ত হয়ে কয়েক পা পিছিয়ে লাফিয়ে এক হাত দিয়ে কোনো মতো গোল বাঁচান। চীনের বিপক্ষেও ঋতুপর্ণার এমন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিট উজবেকিস্তানের রক্ষণে ঝড় তোলেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। এসময়ে তহুরা খাতুন, আনিকা সিদ্দিকী, মনিকারা একাধিক গোলের সুযোগ তৈরী করেও কাজে লাগাতে পারেননি। উজবেকিস্তানও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। পিটার বাটলারের হাই লাইন ডিফেন্স বেশ কয়েকবারই ভেদ করেছিলেন উজবেক ফুটবলাররা। দুই-তিন বার গোলরক্ষক মিলিকে এশাও পেয়েছিলেন। ফিনিশিং দক্ষতার অভাবে উজবেকিস্তান ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। গোলরক্ষক মিলি দু’টি ভালো সেভ করেন প্রথমার্ধে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ৬২ ও ৬৬ মিনিটে গোল দুটি করেন দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা।
দুটি গোলেই দায় আছে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের। এই ম্যাচে একবারে নিস্প্রান ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। তবে প্রথম বারের মতো ৯০ মিনিট মাঠে থাকা তহুরা খাতুন এই ম্যাচ চেষ্টা করেছেন গোল করার। কিন্তু সতীর্থদের ঠিকঠাক সার্পোট না পাওয়ায় তার সেসব চেষ্ঠা কাজে আসেনি। উল্টো ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে উজবেকিস্তান আরেকটি গোল করলে বাংলাদেশ বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে। বাংলাদেশ এই ম্যাচে নেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল ও বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। উল্টো বাংলাদেশকে ৪ গোলে হারিয়ে এখন উজবেকিস্তান কোয়ার্টার ফাইনালের পথে। তিন ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট তিন ও গোল ব্যবধান -২। ‘এ’ গ্রুপের ফিলিপাইনেরও সমান তিন পয়েন্ট ও -২ গোল ব্যবধান। ‘সি’ গ্রুপে জাপান ভিয়েতনামকে বেশি ব্যবধানে হারালে উজবেকিস্তানের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বেশি।
