এক ট্রফিতে তিন ইতিহাস ভারতের

এক ট্রফিতে তিন ইতিহাস ভারতের

ফন্ট সাইজ:

আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে এক রাতেই তিন-তিনটি ইতিহাস গড়লো ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জিতলো তারা। টানা দু’টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিও এবারই প্রথম দেখলো ক্রিকেটবিশ্ব। এমনকি আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বজয়ের ইতিহাসেও প্রথম ভারতই। ঐতিহাসিক আসরটিতে আরও অনেক রেকর্ডে নিজেদের নাম বড় অক্ষরে লিখে দিয়েছে সূর্যকুমার যাদবরা।

রানের মহাকাব্য
নরেদ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের হিমালয় গড়ে ভারত। রান তাড়ায় এক ওভার আগেই ১৫৯ রানে গুড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ভারতের করা রান কেবল ফাইনালের সর্বোচ্চ সংগ্রহই নয়, বরং টুর্নামেন্টের ইতিহাসেই তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। ফাইনালে আগের সর্বোচ্চ দলীয় রানও ছিলো ভারতের, ২০২৪-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ৭ উইকেটে ১৭৮। ৯৬ রানের জয় এ সংস্করণের বিশ্বকাপের ফাইনালে রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়। ২০১২তে শ্রীলঙ্কাকে ৩৬ রানে হারিয়ে এতদিন এটি নিজের কাছে রাখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার এক আসরেই ভারত ২৫০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করেছে তিনবার, যা বিশ্বমঞ্চে প্রথম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট সাতবার ২৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেলার কীর্তিতে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির সফলতম দলও এখন ভারত। এখানে তাদের পেছনে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (৫)।

আরও যত
প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নির্দিষ্ট আসরে ছক্কার সেঞ্চুরি (১০৬টি) হাঁকালো ভারত। এবারের আসরেই ৭৬টি ছক্কা মেরে তালিকার দুইয়ে ক্যারিবিয়ানরা। ফাইনালের পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ভারতের করা ৯২ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। গত বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১ উইকেটে সমান ৯২ রান করে আফগানিস্তান। ফাইনালে ভারত ও নিউজিল্যান্ড মিলে ছক্কা হাঁকায় ২৭টি, যা আগের সর্বোচ্চ ১৫টির (২০২৪ ফাইনাল) চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ!

বিধ্বংসী স্যামসন
এতদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ছিলো ২০১৬’র মারলন স্যামুয়েলসের ৮৫ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস। তবে এবার সব হিসেব বদলে দিলেন টুর্নামেন্টসেরা হওয়া সঞ্জু স্যামসন। ৪৬ বলে ৮৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক এ ভারতীয় তারকা। শুধু তাই নয়, এক আসরে ২৪টি ছক্কা মেরে স্যামসান ভেঙে দিয়েছেন কিউই ব্যাটার ফিন অ্যালেনের (২০) রেকর্ডও। ফাইনালের ছক্কার রেকর্ডেও এখন সবার উপরে স্যামসন (৮)। তিনি ভাঙেন ২০১৬র স্যামুয়েলসের (৬) রেকর্ড।

সিংহাসনে বুমরাহ
ব্যাটিং স্বর্গে কিউইদের ১৫৯ রানেই গুড়িয়ে দেয়ার দিন ৪ ওভারে স্রেফ ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। তাতে ফাইনালসেরাও তিনিই। সেইসঙ্গে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক এখন এ ভারতীয় পেসার। ২৬ ম্যাচে বুমরাহর ঝুলিতে ৪০ উইকেট। লাসিথ মালিঙ্গা ও আনরিখ নরকিয়াকে পেছনে ফেলে তালিকার চূড়ায় এখন এ ডানহাতি পেসারই। আগের দু’জন উপরে ছিলেন ৩৮টি করে উইকেট নিয়ে। এ সংস্করণের বিশ্বকাপে বুমরাহর সামনে কেবল চার স্পিনার। তারা হলেন, রশিদ খান (৪৩), অ্যাডাম জাম্পা ও আদিল রশিদ (৪৪) এবং সাকিব আল হাসান (৫০)। পেসারদের মধ্যে ফাইনালের সেরা বোলিং ফিগারও এখন বুমরাহর। সব মিলিয়ে ভারতীয় তারকার উপরে শুধু শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস। ২০১২তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২ রানে ৪ উইকেট নেন এ লঙ্কান স্পিনার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন