সালথায় সরকারি হালট দখল করে দোকানঘর নির্মাণ

ফন্ট সাইজ:

ফরিদপুরের সালথায় সরকারি হালটের জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং সেখানে প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই দখল সম্পন্ন করা হয়েছে। সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ৩৩ নং দরজা পুরুরা মৌজায় উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে, সালথা-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের সংলগ্ন সরকারি হালটের জমিতে কয়েকটি পাকা দোকানঘর তৈরি হয়েছে। এবং সেখানে নিয়মিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে উপজেলা শাখার সাবেক সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল গং বেআইনিভাবে জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করছেন। হালট সংলগ্ন আমেরিকা প্রবাসী হাসিবুল হাসান হাবিব এর রয়েছে ৫.৫ শতাংশ জমি, যা জবরদখল করে স্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলা সদর বাজারে প্রবেশের প্রধান সড়কটি ২০২০ সালে তৎকালীন ইউএনও মাপজোখ করেন। তাতে দেখা গেছে, সড়কের পাশেই হালটটি অবস্থান করছে। এর আগে ঘর তোলার চেষ্টা করলে তৎকালীন ইউএনও মো. হাসিব সরকার বাধা দেন।

কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় দখল কার্যক্রম চালানো হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ঘরের ভাড়াটিয়ারা জানান, তিনি প্রথমে ইমারতের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেন। পরে ইমারত জায়গাটি বিক্রি করে দেন লতিফ মুন্সীর কাছে। এরপর তিনি লতিফ মুন্সীর কাছে তিন হাজার টাকায় ভাড়ায় থাকেন। তিনি আরও বলেন, জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা ছিল। ঘর উঠানো সারা বেচা কেনা ও সারা, সরকারি হালটের কীভাবে বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। প্রবাসী হাসিবুল হাসান- হাবিব অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি হালট ও তার মালিকানাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমান ঘর মালিক লতিফ মুন্সী বলেন, আমি ইমারতের কাছ থেকে .০৬ পয়েন্ট এবং খায়রের কাছ থেকে ১.১৩ শতাংশ ক্রয় করেছি। সরকারি হালট আমি লিজ নিয়েছি। তবে লিজের কোনো কাগজপত্র নেই বলে তিনি স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। এ বিষয়ে সার্ভেয়ারকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন