দোহার-নবাবগঞ্জের মেধাবীদের মিলনমেলা

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর ব্যস্ত নগর জীবনের মাঝে এক সন্ধ্যায় যেন প্রাণের টানে মিলিত হলেন দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষ। নানা পেশা, নানা পরিচয়ের মানুষ- কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ বা শিক্ষক, ব্যাংকার কিংবা সাংবাদিক। সবাই এক সুতোয় গাঁথা- নিজের শিকড়ের টানে। সেই আবেগ আর সৌহার্দ্যের বন্ধনকে ঘিরেই রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাগিচা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো দোহার-নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের ইফতার মাহফিল ও মিলনমেলা। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকা ও এলাকায় কর্মরত এবং অবস্থানরত দোহার-নবাবগঞ্জের কয়েকশ’ পেশাজীবী অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকের মধ্যেই ছিল উচ্ছ্বাস। ইফতারের আগে-পরে চলে কুশল বিনিময়, স্মৃতিচারণ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলাপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ও ইফতার উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব খালিদ হোসেন সুমন। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান অতিথি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, পেশাজীবীদের সংগঠন সমাজের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দোহার-নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদ সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে- এটাই প্রত্যাশা। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেকোনো ভালো কাজে তিনি পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালনরত দোহার-নবাবগঞ্জের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ইফতার উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক রাশিম মোল্লার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার, ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও কবি-লেখক সাইদুজ্জামান রওশন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিএমএইচ ঢাকার চক্ষু বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মিজানুর রহমান মোল্লা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস লিয়ন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. জুবায়ের আহমেদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফাহিমা আফরোজ এবং বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণেন্দু সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ, খালিদ বিন ওয়াহিদ কনক, আনোয়ার হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, প্রচার সম্পাদক রানা ভূঁইয়া, অর্থ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন খান পরাগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মেজবাহ উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহজাহান সিকদার ও মোহাম্মদ তারেক রাজীব প্রমুখ।

ইফতার শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। আর এ আয়োজনে যেন এক সন্ধ্যার জন্য হলেও ঢাকার ব্যস্ততার ভিড়ে ফিরে এলো দোহার-নবাবগঞ্জের আপনজনদের মিলনমেলার উষ্ণতা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন