ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে কাজের তুলনায় কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্পে কাজ আংশিক বা শুরুই না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল, ভালুকা, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলায় মোট ২২৮টি স্মল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সব প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ২রা এপ্রিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ কাজের ভৌত অগ্রগতির তুলনায় অনেক বেশি অর্থ বিল হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৪ সালেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যান এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্স (জেভি)কে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি স্কিমে প্রায় ৪০টি পরিবারকে পানির সংযোগ দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো পানি সরবরাহ চালু হয়নি। সরজমিন গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ৩৮টি স্কিমের কোনোটিই এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। অনেক জায়গায় কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাগাদা দিয়েও তারা কাক্সিক্ষত সেবা পাননি। এতে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোট চুক্তিমূল্য ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মধ্যে ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো প্রায় ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে প্রায় ২০ কোটি টাকার বর্ধিত প্রাক্কলন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এর মনিটরিং রিপোর্টেও বাস্তবায়িত কাজের মান নিম্নমানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফুলপুর ও অন্যান্য এলাকায় নিম্নমানের টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কোথাও কোথাও কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে- এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কাজ না করেই বিল প্রদান, টেন্ডার কারসাজি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ময়মনসিংহের আঞ্চলিক প্রধান মানবজমিনকে বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ে কাজ চলমান আছে। কাজগুলো আমাদের অব্যবস্থাপনার জন্য ত্রুটি আছে, নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা এগুলো করতে পারব ইনশাআল্লাহ। অভিযোগ তদন্ত চলছে পরবর্তীতে অফিসিয়াল ভাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গৌরীপুরে লাখ টাকার কাজ করে কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
১০ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
