মিডিয়া প্রেশারের কারণেই আমি মনে করি  ‘জজ মিয়া নাটক’ তৈরি হয়েছে: আইজিপি

মিডিয়া প্রেশারের কারণেই আমি মনে করি ‘জজ মিয়া নাটক’ তৈরি হয়েছে: আইজিপি

ফন্ট সাইজ:

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, যখন কোনো ঘটনা ঘটে, আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) এমনভাবে প্রশ্ন করেন যে ঘটনা ঘটেছে এখনই বিচার করতে হবে, উদ্ঘাটন করতে হবে। এমনও হত্যার ঘটনা রয়েছে, সেটা উদ্ঘাটন করতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লেগে যায়। আপনারা এমনভাবে প্রেশার তৈরি করবেন না, যাতে পুলিশের ওপর মেন্টাল প্রেশার তৈরি হয়। যার প্রমাণ আপনারা দেখেছেন ‘জজ মিয়া নাটক’। মিডিয়া প্রেশারের কারণে আমি মনে করি এই বিষয়গুলো তৈরি হয়েছে। এগুলো এখন যেন তৈরি না হয়, আপনারা আমাদের রেসপন্স টাইম দেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের তৈরি হওয়া ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চায়, যাতে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার পাশাপশি উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের ‘সজাগ দৃষ্টি’ থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট মেটাতে ও জনআস্থা উদ্ধারে আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য জেলা সদরের থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। থানাতে একজন সার্কেল এএসপি ওই থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই যাতে থানায় আগত মানুষ হাসি মুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোন ধরনের কমপ্লেইন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে পুলিশ সবসময় ‘সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে’ দায়িত্ব পালন করে বলেও উল্লেখ করেছেন পুলিশের এই সর্বচ্চ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, গেল ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের অঙ্গীকারের মতো দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশেরও অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোন বিবেচনার সুযোগ নাই। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ব্লক রেড দিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে। চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সাথে সাথে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়াও কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিআইডিকে আরও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

আসন্ন ঈদ নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ঈদের সড়ক মহাসড়ক নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দস্যুতা হতে দেয়া হবে না।

মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। র‌্যাব ও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি-ছিনতাই রোধে ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে প্রায়ই অসন্তোষ তৈরি হয়, এবার সে আশঙ্কা মাথায় রেখে পৃথক পরিকল্পনার কথা বলেছেন আইজিপি। তিনি বলেন, এমন গার্মেন্টস শিল্প চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা, মালিক, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। জনবান্ধন পুলিশ গড়তে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।


ভিক্ষু শীলানন্দ

৩ মাস আগে

বিগত দিনের বছর গুলো আমরা দেখেছি নানান সময় নানান ভাবে হয়রানি স্বীকার হয়েছে সাধারণ জনগণ মামলার জড়লা থেকে শুরু করে অনেক কিছু, এ সরকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি মুক্ত করে জনগণের প্রত্যশা এটা।

মন্তব্য করুন