যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি এখন এমন যে, যুদ্ধ সহসা শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই। ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছেই। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধির ফলে এশিয়ার শেয়ারবাজারে সোমবার লেনদেন শুরুতেই বড় পতন দেখা দেয়। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের বেশি হওয়ার পর জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫-এর পতন হয়েছে কমপক্ষে ৬ শতাংশ। ওদিকে একই দিন বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪.১৩ ডলারে পৌঁছায়। আর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ২৩.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ১১২.২৬ ডলারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে দামের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন ‘স্বল্পমেয়াদি’ প্রভাব মাত্র। সপ্তাহান্তে তার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও পূর্বাভাস দেন যে, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি সিএনএনকে বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এটা কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার, কয়েক মাসের নয়। কিন্তু এমন বক্তব্য যেন কারও কানে পৌঁছায়নি।
এশিয়ার শেয়ার বাজারজুড়ে চাপ এখনো অব্যাহত আছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশ নিচে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৭.৩ শতাংশ নিচে এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ২.৬ শতাংশ নিচে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক প্রায় এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখ দেখছে। ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেন শুরু হতে তখনো কিছুটা সময় বাকি। তবে প্রি-মার্কেট লেনদেনের বর্তমান তথ্য বলছে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০- দুই সূচকই বড় পতন নিয়ে লেনদেন শুরু করার পথে আছে। সোমবার সকালে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিক্কেই ৬.২ শতাংশ কমে ৫২,১৬৬.৯২ পয়েন্টে নেমে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৬.৩ শতাংশ পড়ে যায়। আর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের শেয়ারও ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজের ফিউচারও ১.৯ শতাংশ নেমে গেছে।
জেপিমরগ্যানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘনীভূত প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তিনি রয়টার্সকে বলেন, স্বল্পমেয়াদে সম্ভাব্য চিত্র হলো, তেলের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের দিকে যেতে পারে। তারপর সংঘাত দ্রুত কমে এলে কিছুটা নেমে আসবে।
