ইরানে একের পর এক বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরুর আবেদন জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এসব হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বেসামরিক অবকাঠামো ভয়াবহভাবে ধ্বংস হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে একটি পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র, আরেকটি পার্ক। সেখানে ছিল জরুরি সেবাকর্মীদের ঘাঁটি, হাসপাতাল ও স্কুল। রোববার সকালে নাজাফাবাদে এক প্রাণঘাতী হামলার পর এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ১৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসফাহান গভর্নরেটের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপপ্রধান আকবর সালেহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তিনি যে যুদ্ধবিমানগুলোকে মনে করছেন, সেগুলো স্থানীয় ট্রাফিক ও ড্রাইভিং সেবার একটি কার্যালয়ে হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, কয়েক মিনিট পর একই স্থানে দ্বিতীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যখন স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি সেবাকর্মীরা আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরুর আবেদন জানিয়ে এমন তথ্য জমা দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে সংঘাত শুরুর পর থেকে ৬৬০০-এর বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আরেকটি ভয়াবহ হামলায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি হামলা দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের একটি মিঠাপানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে বেসামরিক জীবনরেখাকে লক্ষ্য করে চালানো ‘স্পষ্ট ও মরিয়া অপরাধ’ বলে নিন্দা জানান। এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, কেশম দ্বীপের একটি মিঠাপানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্পষ্ট ও মরিয়া অপরাধ করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের অবকাঠামোয় হামলা একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ওদিকে শিরাজের জিবাশাহর পার্কে ৫ মার্চের পৃথক এক বিমান হামলা নিয়ে নিউ লাইনস ম্যাগাজিনের একটি গভীর অনুসন্ধান লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। উপগ্রহচিত্র ও যাচাইকৃত ভিডিও বিশ্লেষণ করে তৈরি ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, হামলায় পার্কের ভেতরে থাকা জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মীদের একটি ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাকর্মীও আছেন। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত একটি পরিচিত সামরিক স্থাপনা, যার মধ্যে ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের একটি ইউনিটের ফ্যাকাল্টিও ছিল, তা অক্ষত আছে। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির সশস্ত্র সংঘাত আইনবিষয়ক অধ্যাপক আদিল হক ম্যাগাজিনটিকে বলেন, বিষয়টা কিছুটা ব্যাখ্যাতীত। শনাক্তযোগ্য একমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা করা হয়নি।
পেন্টাগনের সাবেক টার্গেটিং প্রধান ওয়েস ব্রায়ান্ট প্রমাণগুলো পর্যালোচনা করে বলেন, আধুনিক নিখুঁত অস্ত্রের ব্যবহারে এমন ঘটনা দুর্ঘটনাবশত হওয়া খুবই অসম্ভব। ব্রায়ান্ট বলেন, এ ধরনের নিখুঁত অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া খুবই বিরল। আমি জীবনে এমন কোনো হামলা দেখিনি, যা লক্ষ্য মিস করে রাস্তার ওপারে ২০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবিক সংস্থার প্রতিবেদনে বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির একটি ধারাবাহিক চিত্র উঠে এসেছে। উপগ্রহচিত্র ও যাচাইকৃত ভিডিও ব্যবহার করে সিএনএনের একটি ফরেনসিক তদন্তে উপসংহার টানা হয়েছে যে, তেহরানে সামরিক ও পুলিশ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় কাছাকাছি অন্তত তিনটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি ডা. পির হোসেইন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো তার চিঠিতে বিস্তৃত তথ্য দিয়েছেন। কোলিভান্দের মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ৭,৯৪৩টি আবাসিক ইউনিট, ১,৬১৭টি বাণিজ্যিক ইউনিট, ৩২টি ওষুধ ও চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফার্স প্রদেশের লামের্দে একটি ক্রীড়া হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে ১৮ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিল প্রশিক্ষণের জন্য জড়ো হওয়া কিশোরী মেয়ে। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স এক বিবৃতিতে ইরানের ওপর সামরিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুইস সরকার ‘আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে চলার’ আহ্বান জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমানোর তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ-পরামর্শও জরুরিভাবে হালনাগাদ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
৩ মাস আগে
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬, ১০ঃ২১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Zakiul Islam
৩ মাস আগেট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু বিশ্বে জঙ্গলের শাসন কায়েম করতে চান । তাদের বর্বরতায় বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে । এরা দুজনেই যুদ্ধাপরাধী । কন কারণ ছাড়াই এরা ইরানের উপর আক্রমন শুরু করেছে ।