ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বুধবার সতর্ক করেছেন, ইরান যদি এমন কোনো নেতাকে বেছে নেয়, যে ইসরাইলকে ধ্বংসের নীতি অনুসরণ করবে, তাহলে সে নিশ্চিতভাবেই হত্যাচেষ্টার লক্ষ্য হবে। তাতে তার নাম যা-ই হোক, কিংবা সে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন। এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তার পদে বসানো হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি তার পিতাকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সেই ক্ষত তার বুকে এখনও। তিনি নিশ্চয়ই সে কথা ভুলে যাননি। ফলে তিনি আরও কট্টরপন্থি হবেন এটাই স্বাভাবিক। এমনটা হলে তিনিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টার্গেটে থাকবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি বদলালেই শাসনব্যবস্থার স্বভাব বদলায় না। আর ইসরাইল নতুন নেতৃত্বের সঙ্গেও একইভাবে মোকাবিলা করবে। একই রকম মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাই ইসরাইলিরা যদি তাদের কথায় অটল থাকে, তাহলে তারা মোজতবা খামেনিকেও তার বাবার মতোই খুঁজে বেড়াবে। হামলার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে। আর যদি তারা প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য পায়, তাহলে তারা সেটাই করবে। এর বাইরে গিয়ে, ইসরাইলিরা এটাও দেখবে যে বিষয়টি ইরানের নেতৃত্বের অবস্থার ব্যাপারে কী ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূলত, নিজের টিকে থাকার অস্তিত্ব সংকটে লড়তে থাকা ইরানি সরকার স্পষ্টভাবেই ধারাবাহিকতার প্রতীক এমন একজনকে বেছে নিয়েছে। তিনি আক্ষরিক অর্থেই সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছেলে। মনে রাখতে হবে, ইরানের ইসলামি বিপ্লব একটি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রকে উৎখাত করেছিল। অথচ, এখনকার এই পরিস্থিতির কিছু দিক আবার বংশানুক্রমিক ব্যবস্থার মতোই দেখাচ্ছে। তাহলে ইসরাইলের কাছে এটি ইরানি শাসনব্যবস্থার অবস্থা সম্পর্কে কী বার্তা দিচ্ছে? এটি কি অবক্ষয় বা দুর্বলতার লক্ষণ? এতে কি তারা এমন কোনো সুযোগ দেখছে, যা কাজে লাগানো যেতে পারে? ইরানের জনগণের কাছে এই নতুন ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা বা বৈধতা নিয়ে কি এমন কিছু আছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারে? অবশ্য, এই সব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই। তবে এই ধরনের প্রশ্নই এখন ইসরাইলি সরকার নিজেদের মধ্যে তুলবে।
