সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫২ মিনিট। সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে ঢুকলেন দুই বাংলাদেশি মুতামির (ওমরাহ পালনকারী)। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার। দুজনেরই দেশে ফেরার কথা শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি।
এখন তাদের হাতে টাকা নেই, দেশে ফেরার টিকিটও নেই। থাকা-খাওয়া নিয়ে সংকটে পড়েছেন। নতুন করে টিকিট কাটতে এজেন্সি মালিক ৫০-৬০ হাজার টাকা চাচ্ছেন। এ বিষয়ে সাহায্য পেতে হজ মিশনে আসেন। দেখা করেন মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে ট্রাভেল
এজেন্সি মালিক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন হজ কর্মকর্তা। দরিদ্র মুতামিরদের কিছু টাকা ভর্তুকি দিতে অনুরোধ করেন। মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। এদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন। অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছেন। সে জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত চাইছেন।
কামরুল ইসলাম জানান, মুতামিররা হোটেল বিল দিতে পারছেন না। অনেকের খাবার খাওয়ার টাকা নেই। এমন নানা রকম সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ হজ মিশনে আসছেন তারা। অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির মালিককে ফোন করে অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, 'এ সংকটে দেশে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের কেন নতুন টিকিটের পুরো টাকা দিতে হবে? সেটাই ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মালিকদের বলছি। অনেক মালিক সহযোগিতা করছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ফ্লাইট বা টিকিট বাতিল হলে এয়ারলাইন্সগুলো টাকা ফেরত দেয়। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের আপাতত নতুন টিকিট কিনেই ফিরতে হবে। তবে ফ্লাইট যাদের চালু আছে, তাদের নতুন করে টিকিট কিনতে হবে না।
মক্কায় হজ মিশনে প্রতিদিন বাংলাদেশি ভিড় করছেন। গত শুক্রবার মুতামির মো. আজাদ জানান, দেড় লাখ টাকা দিয়ে ওমরাহ পালন করতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে আসেন। ফিরে যাওয়ার কথা ৭ মার্চ। যুদ্ধ বাধায় এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। এখন দেশে ফিরতে নতুন করে টিকিট কিনতে ৫০ হাজার টাকা চাইছে ট্রাভেল এজেন্সি। তিনি গরিব মানুষ। তাঁর কাছে বোনো টাকা নেই। খাবেন কী, থাকবেন কোথায়, কিছু জানেন না। প্যাকেজ শেষ হওয়ায় থাকা-খাওয়া, টিকিটের দায়িত্ব আর নিচ্ছে না এজেন্সি। চোখমুখে অন্ধকার দেখছেন। তাঁর সঙ্গে আসা ১০ জন মুতামিরের একই অবস্থা।
আরেক মুতামির রিয়াজুল হায়দার বলেন, 'এক সপ্তাহ ধরে নিজ খরচে হোটেল, থাকা-খাওয়া ও টিকিটের ব্যবস্থা করেছি। ট্রাভেল এজেন্সি কোনো কিছুর ব্যবস্থা করেনি। এখন ইন্ডিগো করে কলকাতা যাব। সেখান থেকে দেশে ফিরব।'
গত শনিবার দুপুর ২টায় মক্কার মিশফালাহ খুপড়ির পাশের বাংলাদেশ হজ মিশনে গিয়ে দেখা মেলে মো. দিদার, সাইফুল হক ও ছিদ্দিক আহমদের। তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে আসেন। তাদের দেশে ফেরার এমিরেটসের ৩ মার্চের টিকিট বাতিল। প্রত্যেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্যাকেজে মক্কায় আসেন। গত এক সপ্তাহে তাদের নিজ খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া হচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্সি কোনো খবর নিচ্ছে না। প্রতিদিন হোটেলে ৪০০ রিয়েল ভাড়া, খাওয়ার বিল, একই সঙ্গে নতুন করে টিকিট কিনে দেশে ফিরতে হবে। যুদ্ধ তাদের দুর্ভোগ ও বাড়তি ব্যয়ের বোঝা তুলে দিচ্ছে। তাদের হোটেলে আটকে পড়া আরও ২৭ জন ওমরাহ যাত্রী অনিশ্চয়তা, আতংক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
একটি সূত্র জানায়, আগের করা টিকিট বাতিল হওয়ায় কাউকে ৫০ হাজার, কাউকে ৬০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এ হিসাবে সাড়ে তিন হাজার যাত্রীকে অন্তত ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওমরাহ ও হজ ট্রাভেল এজেন্সিগুলো মুতামিরদের কোনো আর্থিক সহযোগিতা করছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, আটকে পড়াদের দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে বিমানের দুটি বিশেষ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতিও মিলেছিল। কিন্তু দেশ থেকে খালি এসে জেদ্দা থেকে ওমরাহ যাত্রী নিয়ে যেতে প্রতি টিকিটের খরচ পড়বে লাখ টাকা। খরচ বেশি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বিশেষ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এখন যেসব নিয়মিত ফ্লাইট আছে, সেখানে খালি থাকা টিকিট ৫০-৬০ হাজার টাকার মধ্যে কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের পর্যায়ক্রমে দেশে যেতে হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালন করতে মক্কায় আসেন বহু ব্যক্তি। সব উড়োজাহাজ সংস্থা তাদের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছেন। অর্থ সংকটে তারা দিশেহারা। নতুন করে দেশে ফেরার টিকিট কিনতে ৫০-৬০ হাজার টাকা ট্রাভেল এজেন্সির হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। মক্কা-মদিনায় বসে দেশে স্বজনদের কাছে ফোন করে আকুতি-মিনতি করছেন অনেকে। অনেককে ৫০-৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেন, তাদের চালু থাকা এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট ম্যানেজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, সালাম এয়ারে পর্যাপ্ত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বাংলাদেশি ভারতের ইন্ডিগো এয়ারে কলকাতা ট্রানজিট করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ফিরছেন বলে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম আলো
‘তেলের জন্য লাইন, পণ্য সরবরাহ নিয়েও দুশ্চিন্তা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেল কিনতে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে গতকাল রোববারও যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইন ছিল। সকালে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল ছিল না। দুপুরের পরে সেগুলোতে তেল আসার পর বিক্রি শুরু হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, ঢাকার বাইরেও তেলের জন্য যানবাহনচালকদের লাইন ধরতে হচ্ছে। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তেল না পেয়ে বচসার ঘটনা ঘটছে।
সহজে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও বিপাকে পড়েছে। তারা বলছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দেশে যেসব শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংযোগ নেই, সেগুলো বয়লার ও জেনারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জ্বালানি তেল না পেয়ে এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম আগের মতো চালানো যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে গতকাল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা গতকাল বিপিসির কার্যালয়ে যান। একটি শিল্পগোষ্ঠীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের জন্য তিন হাজারের বেশি ট্রাক রয়েছে। এসব ট্রাক পরিচালনায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনের ‘কর্মচারীদের পিটুনিতে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরব আহমেদ (২২) নিহত হন গত শনিবার। সেদিন রাতেই দুটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রাখা তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা অবরোধ করে রাখেন বাসশ্রমিকেরা। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জ্বালানি তেলের স্থাপনা ও তেল পরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে তেল–গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আতঙ্কিত মানুষ লাইন ধরে বেশি পরিমাণে তেল কিনছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গতকাল থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমিয়েছে। স্টেশনগুলো গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ তেল নিয়েছিল, তার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, তেলের মজুত আছে। তবে সঞ্চয়ী হতে সরবরাহ কমানো হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বিপিসির ডিপো বা মজুতাগার থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় না। ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাড়তি চাহিদার কারণে বৃহস্পতিবার তেল শেষ হয়ে যায়। ফলে গত শুক্র ও শনিবার তারা তেল বিক্রি করতে পারেনি।
ঢাকার মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে বেলা একটার সময় দেখা যায়, কোনো তেল বিক্রি হচ্ছে না। সামনে একটি বোর্ডে লেখা, ‘অকটেন, ডিজেল নেই।’ এই পাম্পের মালিক আবদুস সালাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ডিপো থেকে আসা রিজার্ভের সব তেল বিক্রি করে শেষ করে ফেলেছি।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পুরো ইসরাইলে ধ্বংসের ক্ষত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৯ দিন ধরে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করার পর এবার তেলের ডিপোগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শনিবার রাতে ৩০টি জ্বালানি স্থাপনায় এ হামলার পর ইরানের বিধ্বস্ত ডিপোগুলো থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায়ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের নির্মূল হওয়া পর্যন্ত বন্ধ হবে না এ অভিযান। এদিকে হামলার পালটা জবাব দিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি বাড়িয়েছে ইরান। ইরানের বিভিন্ন শহর থেকে ছুড়ছে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। এ হামলায় ইসরাইলের সর্বত্রই সৃষ্টি হয়েছে ধ্বংসের ক্ষত। কুয়েতের বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থাপনাসহ সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। যৌথ আগ্রাসনের কাছে কোনোভাবেই মাথানত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, স্কাই নিউজ, আলজাজিরার।
যৌথ বাহিনীর শনিবার রাতের হামলায় ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরানের বিমানবন্দর, পরিবহণ ডিপো আর পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বেসামরিক স্থাপনা। আলজাজিরা রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ইরানের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল তেহরানের কিছু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে, অবস্থা দেখে মনে হয়েছে সড়কের পাশ দিয়ে যেন ‘আগুনের নদী’ বয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামের একটি সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের একটি সড়কের পাশ দিয়ে আগুন জ্বলছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি তেলের ডিপো ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
ইসরাইল এই হামলা চালিয়েছে। তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পে হামলা চালানো কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই বলে রোববার তিনি সিএনএনকে জানান। ইসফাহান বিমানবন্দরের কয়েকটি এফ-১৪ যুদ্ধ বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুদস ফোর্সের অন্তত ১৭টি বিমান। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী রোববার জানিয়েছে, তেহরানের আইআরজিসির ‘স্পেস ফোর্স হেডকোয়ার্টার’ লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের হামলায় ইরানের মহাকাশ সংস্থার সদর দপ্তর তছনছ হয়ে গেছে। এখান থেকেই ‘খাইয়াম’ স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করা হতো বলে আইডিএফ উল্লেখ করেছে। এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইরান ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং বাসিন্দাদের ওপর নজরদারি চালাত বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে ৩০টি গ্রামের জন্য নির্মিত পানি শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৯ হাজার ৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানের মধ্যে রয়েছে-৭ হাজার ৯৪৩টি আবাসিক ইউনিট এবং ১ হাজার ৬১৭টি বাণিজ্যিক ইউনিট।
এদিকে শনিবার রাতের তীব্র হামলার জবাবে ইসরাইল ও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ফাতাহ ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত এ হামলার নতুন ভিডিওতে দেখা যায় যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহেও শত্রুকে দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যুদ্ধের কৌশল হিসাবে তারা এখন দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে। তাই শনিবার রাতভর ইসরাইলের আকাশ ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দখলে। জেরুজালেম ও তেলআবিবের পাশাপাশি হাইফা বন্দরেও তেল শোধনাগারই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে তেলআবিবের বিভিন্ন এলাকা। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আইডিএএফ ইসরাইলের দিকে তেড়ে আসা ইরানের বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করেছে। আমাদের প্রতিরক্ষা সিস্টেম এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
কালের কণ্ঠ
তেহরানে ‘আগুনের নদী’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলা নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের বিভিন্ন সামারিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর প্রথমবারের মতো দেশটির জ্বালানিসম্পদকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, যার মধ্যে তেহরানের জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রও রয়েছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর গতকাল রবিবার সকালে শহরটির রাস্তায় পাশে ‘আগুনের নদী’ বয়ে যেতে দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের গুদামে ইসরায়েলি হামলার পর ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে রাজধানী তেহরানের আকাশ, ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’।
পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তরফ থেকে নাগরিকদের খোলা জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার এবং যতটা সম্ভব বাড়িতে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এই আগুনের কারণে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছে।
এদিকে সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১২ জন।
সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডের ওই ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের: ইসরায়েলে গতকাল দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তেল আবিবের একটি স্থানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ছোড়া নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেনও বাজানো হচ্ছিল।
এর মধ্যেই তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছিল, তারা বেয়ারশেবা ও তেল আবিব জর্দানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা পৃথক এক বার্তায় জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে ‘গুলিবর্ষণের’ পর ছিটকে আসা ধাতব টুকরার আঘাতে আহত তিনজনকে তারা চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে দেশের কোন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে তা তারা উল্লেখ করেনি। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে প্রায় দুই হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
যুদ্ধ বিপজ্জনক পর্যায়ে—ইরান: এদিকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে চালানো হামলা চলমান যুদ্ধকে এক ‘বিপজ্জনক পর্যায়ে’ ঠেলে দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ‘রাসায়নিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানির মজুত ধরে রাখতে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে সরকার। জ্বালানি তেলের সাশ্রয় এবং অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো, অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান, ফিলিং স্টেশনে নজরদারি জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ও ঈদের ছুটির বন্ধ বাড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগেও বিদ্যুত্-জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে এখনো যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং দেশের পথে জাহাজে থাকা তেল রয়েছে, তা দিয়ে এক মাস চলা যাবে। আর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান ও নতুন উত্স থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা বা দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশনগুলোতে গতকাল থেকে তেল সরবরাহ সীমিত করেছে। বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গত বছরের একই সময়ে একটি ফিলিং স্টেশন যে পরিমাণ তেল পেয়েছিল, গতকাল থেকে ঐ স্টেশনকে তার চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক গতকাল জানান, তারসহ অন্যান্য ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ ২০ শতাংশের মতো কমানো হয়েছে। তবে গ্রাহক প্রয়োজনের অতিরিক্ত না কিনলে সংকট হবে না। কেননা চাহিদা কমানোর বা সাশ্রয় করার কিছু পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে বাজারে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। এতে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই ঝুঁকি এড়াতে সরবরাহ কমিয়ে মজুত দীর্ঘদিন ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরবরাহ সীমিত হওয়া এবং আতঙ্কে বেশি তেল কেনার প্রবণতার কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েক দিনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হলে আজ সোম ও আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন। তবে অনেক ক্রেতা দাবি করেছেন, পেট্রোল পাম্প মালিকদের কেউ কেউ অবৈধ মজুতদারিতে কিংবা সরবরাহ আটকে রাখার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তা না হলে এত সংকট তৈরি হওয়ার কথা না।
নয়া দিগন্ত
‘পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযান নবম দিনে সঙ্ঘাত আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সঙ্ঘাতের অর্থনৈতিক মাত্রা নতুনভাবে সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। একই সাথে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে তেহরান।
তেহরানে তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
শনিবার রাতে তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত শেহরান তেল সংরক্ষণাগারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল আগুনের শিখা আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। দূর থেকেও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা এমন জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যেগুলো ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল অবকাঠামোয় হামলা এই যুদ্ধে নতুন ধাপের সূচনা করেছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘মূল্যস্ফীতি আবারো নয় শতাংশ ছাড়াল, ১০ মাসে সর্বোচ্চ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবেই মূল্যস্ফীতিতে এ চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০২৫ সালের শেষ দুই মাস থেকে বাড়তে শুরু করা মূল্যস্ফীতি এ নিয়ে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এর মধ্যে অক্টোবরে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা গেলেও গত বছরের নভেম্বর থেকে আবারো বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ এবং নতুন বছরের প্রথম মাসে (জানুয়ারি) এ হার ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, টানা পাঁচ মাস নিম্নমুখী থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিকভাবে গম, ভোজ্যতেল ও মাংসসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারের এ প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিতেও। ফেব্রুয়ারির বাজারে খাদ্যপণ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলসহ জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি করছে, যা আগামীতে দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। জানুয়ারিতে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। টানা পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। জানুয়ারিতে গ্রামে ও শহরে মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬৩ ও ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গত তিন বছর ঊর্ধ্বমুখী বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়ের মধ্যে দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা আগের ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা। তবে দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে পারেনি সরকার, বরং বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
বিবিএসের দেয়া মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঠিকতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সঠিক তথ্যের বিপরীতে সরকারের পছন্দসই প্রতিবেদন প্রকাশ করার বিস্তর অভিযোগ ছিল সংস্থাটির বিরুদ্ধে। এখনো সে সংস্কৃতি থেকে পরিসংখ্যান সংস্থাটি বের হতে পারেনি বলে মনে করেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটি প্রকৃত মূল্যস্ফীতির চিত্র নয়। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি অতীতের মতোই মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হার বিবিএসের দেখানো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।’
দেশ রূপান্তর
‘যুদ্ধ বন্ধ না হলে বাজার হারাবে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই। ইরানের পাল্টা আক্রমণে এ সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ব্যাপকতা যত বাড়ছে, বাংলাদেশের জন্য তত বেশি শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একদিকে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা সার ও জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কৃষি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব পণ্যের রপ্তানি যুদ্ধের কারণে বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই কৃষিপণ্যের ও কৃষিজাতপণ্যের রপ্তানি বন্ধ হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানিতে প্রথম সারির একটি কোম্পানি প্রাণ আরএফএল গ্রুপ। যুদ্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ২০০ কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়েছে, যেগুলোর গন্তব্য ছিল সৌদি আরব, দুবাই, কাতার ও কুয়েত। ওইসব দেশে রপ্তানি শুধু বন্ধ হয়ে গেছে তাই নয়, কবে আবার রপ্তানি শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বড় বাজারে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য শঙ্কার বিষয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বড় বাজার তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অনিশ্চয়তার মধ্যে পণ্যগুলো এখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। এগুলো ওয়্যারহাউজে রাখার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এটা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা।’
একই অবস্থা দেশের আরেকটি বড় কোম্পানি স্কয়ারের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যুদ্ধ শুরু হয়েছে যেদিন, সেদিনই ৯টি কনটেইনার আটকা পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখানে আধা মিলিয়ন ডলারের পণ্য ছিল।
স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম দিনেই ৯টি কনটেইনার আটকা পড়েছে। এখন পণ্য পাঠানোর মতো পরিস্থিতি নেই।’ তিনি বলেন, ‘শঙ্কার বিষয় হলো, যুদ্ধ কবে থামবে, তার নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি এখনো। পরে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলেও সেখানে বাড়তি জাহাজভাড়া গুনতে হবে, কনটেইনার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সবমিলে কৃষিপণ্যের রপ্তানি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘তেলের আগুনে পুড়ছে তেহরান’। খবরে বলা হয়, ইরানে আগেই কঠোর আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে অনুযায়ী শনিবার রাতে (ইরানি সময়) তেহরানের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণে তেলসহ আগুন শহরব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ইরানও তাৎক্ষণিক বড় মাত্রার পাল্টা আঘাত হেনেছে আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন অবস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। ওইসব জায়গার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষেরই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। ইরান বলেছে, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এসব হামলার কঠিন মূল্য দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘বাড়াবাড়ির ফল’ খুব খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা, বিবিসি
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতে তেহরানের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই আকাশে আগুনের গোলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে থাকে চারদিক। হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দে শুধু তেহরান নয়, পাশের শহর কারাজও কেঁপে ওঠে। একই সঙ্গে তেহরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। নিহতের সবাই একটি তেল ট্যাংকারের চালক। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তেহরান এবং আলবোর্জ প্রদেশের মোট চারটি তেলক্ষেত্র এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেন্দ্রে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে ইরান জানিয়েছে, তেলক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোরকম জ্বালানির ঘাটতি হচ্ছে না। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকার জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে।
আরেক খবরে বলা হয়, তেহরানের তেলক্ষেত্রগুলো বিস্ফোরিত হয়ে ডিপোগুলো থেকে তেল চুইয়ে তেল ও আগুন একসঙ্গে হয়ে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনেক অংশে ঢুকে পড়ে। ফলে মনে হতে থাকে শহরের রাস্তার পাশগুলো যেন এক একটি ‘আগুনের নদী’। তেহরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরান’ থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের একটি রাস্তার দীর্ঘ অংশজুড়ে আগুন জ্বলছে। জানা গেছে, ইরানের তেল ভান্ডারে বিস্ফোরণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ‘বিষ বৃষ্টি’ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে তেহরান কর্তৃপক্ষও নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, এই বৃষ্টি গায়ে লাগলে ত্বকে রাসায়নিক দহন এবং ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।
তেলক্ষেত্রে হামলা ছাড়াও এদিন ইরানের কেন্দ্রীয় শহর নাজাফাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ডাবল-ট্যাপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আহতদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ঠিক সেই সময় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
ইরানের পাল্টা আঘাত : তেহরানের তেলের ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কুয়েতের সরকারি ভবন ও দুটি তেলের ডিপোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর তেলের ডিপোতে বড় মাপে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ বিষয়ে কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদও দপ্তর ভবনে গতকাল ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ২২ তলা ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। বলা হয়, হামলার পর সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদও দপ্তর এবং আশপাশের ভবনগুলো থেকে নিরাপত্তা প্রহরীসহ সবাইকে এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।
আরেক খবরে বলা হয়, সরকারি ভবনে হামলার পাশাপাশি কুয়েতের দুটি তেলের ডিপোতে ইরানি ড্রোন আঘাত করায় বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত ডিপো দুটিতে বিরাট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ডিপো দুটির অবস্থান বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় বিমানবন্দরেও ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি ভবন ও তেলের ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সহযোগীদের খবর
মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
৩ মাস আগে
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬, ৮ঃ৫৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
